প্রতিবেদন শুরু করা যাক কয়েকটি দৃশ্যপট তৈরির মধ্যে দিয়ে।
টেক ওয়ান – নেতা দু’জন। দল একটি। সেই দলের একজন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছে। দ্বিতীয়জন দলের মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছে তারেক রহমান। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন। আর দ্বিতীয়জন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর। তিনি দলের মহাসচিব। টেক টু কিছুদিন আগে তারেক রহমানকে একটি গণমাধ্যমের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা নিয়ে তাঁর বা তাঁর দলে অবস্থান। জবাবে তারেক বলেছিলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। আজ যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে তাঁর দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে না, এমন নিশ্চয়তা কোথায়। টেক থ্রি – তারেক রহমান প্রধামন্ত্রী হওয়ার বেশ কিছুদিন বাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা দফতরগুলি খুলতে শুরু করে। প্রশাসনের তরফ থেকে কোথাও কোথাও বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বত্র নয়। এই ঘটনা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে সরকারে প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে নিষিদ্ধ থাকা একটি দলের পক্ষে এভাবে তাদের বন্ধ থাকা দফতর খোলা সম্ভব নয়। টেক ফোর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গুলশনে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে এই মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব ছিল, ‘আওয়ামী লীগের ব্যাপারে তো নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নিয়েছে। তাদের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেই উঠে আসবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।’
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন লেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্যাপারে তো নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নিয়েছে। তাদের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেই উঠে আসবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।’
আর আওয়ামী লীগকে নিয়ে তাঁর সর্বশেষ অবস্থান হল ‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি যেটা মনে করি, পলিটিকসটাকে চলতে দিন, লেট পলিটিকস মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুকে দেখে রাজনীতিকে বন্ধ করে গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে…। লেট ইট মুভ, কাজ করুক না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে; বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে, করছেও। আওয়ামী লীগ তো চেষ্টা করবেই কিছু কিছু কাজ করতে। করছে। লাভ তো হচ্ছে না। পিপল (জনগণ) তাদের রিজেক্ট করেছে। পিপল রিজেক্ট করে দিয়েছে একদম, তাই না? ’ তিনি একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলছেন। আবার তিনিই বলছেন, – “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে; বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে।” কোনও গণতান্ত্রিক দেশে একটি রাজনৈতিকদলকে এভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রাখা যায় কি? তাহলে সেটা কী ধরনের গণতন্ত্র, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
সূত্রের খবর, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য কানে গিয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করেন। জানতে চান, আওয়ামী লীগকে নিয়ে কেন তাঁর দলের একজন শীর্ষ নেতা এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের চাপে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং ভারতে চলে আসেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। ফলে গত মাসে বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে হাসিনার দল লড়তেই পারেনি। অনেকে তাই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি।












Discussion about this post