ওসমান হাদির দুই হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন যে ভারতে ধরা পড়েছে সেটা আমাদের কাছে নতুন নয়। নতুনত্ব অন্য জায়গায়। এই দুইকে কিন্তু সাউথব্লক এখনও দিল্লির হাতে তুলে দেয়নি। এমনকী কনস্যুলার অ্যাক্সেস পর্যন্ত নয়। রহস্য এখানেই। যেদিন এই প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে, ঠিক তার দুদিন আগে ইনকিলাব মঞ্চ থেকে ছ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। রাজনৈতিকমহল বলছে, তাদের প্রতিটি দাবির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তারা বিএনপি সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুতে আশ্চর্যরকম নীরব। একই সঙ্গে তারা নিষ্ক্রিয়। ইনকিলাব মঞ্চের তরফে করা দাবিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আসামীদের আবারও ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার কোনও পদক্ষেপ না করায় তারা বিস্মিত। এই প্রতিবেদন সেই রহস্যের জট উন্মোচন করবে।
সাউথব্লক ঢাকার হাতে এই দুই অভিযুক্তকে তুলে না দেওয়ার কারণ, তারা এদের জেরা করে জানার চেষ্টা করবে হাদিকে খুন করার পিছনে কার মাথা বা কোন দল কাজ করেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পূর্বতন তদারকি সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল, হাদিকে মারতে দিল্লি থেকে ভাডা়টে গুণ্ডা পাঠানো হয়েছে। তদারকি সরকার আসলে তাদের কাঁধ থেকে সব দায় ঝেড়ে ফেলে ভারতের কাঁধে চাপিয় দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের এই ভোকাল টনিক টাটকা ছিল মাসুদ আর আলমগীর ধরা না পড়া পর্যন্ত। এই দুইকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত থেকে থেকে গ্রেফতার করার পর তাদের গলা চুপসে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ফয়সালকে ঘিরে ধরেছে সাংবাদিকেরা। সেখানে সে স্পষ্ট জানায়, এটা জামাতের একটা চাল হতে পারে। কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, এবার তা নিয়ে আলোচনা।
ফয়সালকে প্রশ্ন করা হয়, হাদি হত্যায় কার হাত রয়েছে বলে সে মনে করছে? জবাবে সে বলে, ‘‘এটা জামাতের একটা চাল হতে পারে’’। সঙ্গে সঙ্গে ধেয়ে আসে – জামাতের কে? জবাবে সে বলে ‘‘অ্যাকচুয়ালি আমি এটা জানি না। ’’ এখানেই শেষ নয়। ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সে এক নিশ্বাসে বলে যায়, ‘‘আপনারা এই যে হাদি হাদি করছেন… বাংলাদেশের মানুষ হাদি হাদি করছে, হাদি অ্যাকচুয়ালি জামাতের প্রোডাক্ট। ও তো একটা জঙ্গি।’’ ফয়সালকে প্রশ্ন করা হয়, ঘটনার সময় সে বাংলাদেশে ছিল কি না ? জবাবে ফয়সাল বলে, সে সেই সময় বাংলাদেশে ছিল। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জানতে চান জামাতের কে? উত্তর দেওয়ার আগেই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়।
ফয়সালের এই বিবৃতি যে জামায়াতকে অস্বস্তিতে ফেলবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হাদির দুই হত্যাকারীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইনকিলাব মঞ্চ থেকে বিএনপি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তারেক সরকারের তরফ থেকে কিন্তু এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ২০২৫-য়ে হাদির মৃত্যু নিয়ে তারেক রহমানকে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি বলেছিলেন, হাদির অকাল শহীদি মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় – রাজনৈতিক সহিংসতা কত বড়ো মানবিক মূল্য দাবি করে। তিনি আল্লাহার কাছে দোয়া করেন। হাদিকে একজন ‘সাহসী নেতা’ উল্লেখ করে তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘হাদি ছিল একটি নির্ভিক কণ্ঠস্বর। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ’ তখন তারেক কিন্তু বিদেশে। এখন তিনি দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পুরো দৃশ্যপট বদলে গিয়েছে। তাই, তাঁর সরকারের ওপর ইনকিলাবমঞ্চ থেকে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা দিল্লিকে পাল্টা চাপ দেয় কি না, সেটা যেমন দেখার, দেখার এটাও যে সেই চাপের কাছে সাউথব্লক নতি স্বীকার করে কি না।












Discussion about this post