বাংলাদেশে পালা বদলের পর থেকেই সংখ্যালঘুর উপর অত্যাচার যেন আজ বাংলাদেশের জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নিয়ে বারংবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। যদিও এই বিষয়ে ইউনুস বরাবরই স্পিক টু নট অবস্থান নিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে নতুন করে উত্তাল পদ্মাপার। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও হেনস্থা শিকার কোথাও পিটিয়ে খুনের অভিযোগ। বাংলাদেশে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর কতগুলি অত্যাচার হয়েছে? তথ্য দিয়ে জানাল ঢাকা।সোমবার ইউনূসের দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানানো হয়, ‘জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে পুলিশের নথি পর্যালোচনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাইকৃত ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট, জেনারেল ডায়েরি, চার্জশিট এবং সারাদেশের তদন্ত অগ্রগতির ভিত্তিতে পাওয়া গেছে। তারই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অপরাধের ঘটনাই উদ্বেগজনক হলেও, তথ্য-উপাত্তের প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার গুরুত্বকে তুলে ধরে। ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে কতগুলি সাম্প্রদায়িক ঘটনা তারও তথ্য দিয়েছে ঢাকা। ইউনূসের মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ‘পর্যালোচনায় মোট ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে, আর ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল, পাশাপাশি অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার মন্ত্রণালয় পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে-
সাম্প্রদায়িক ঘটে চলা বাংলাদেশের অশান্তির মধ্যে রয়েছে ৭১ টি সনাতনী হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর, ৩৮
সনাতনী হিন্দুদের মন্দিরে চুরির ঘটনা, ১১ টির মত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, ১০ টির মত মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং ৮ টির মত অন্যান্য হিন্দুদের উপর আক্রমণের ঘটনা এছাড়া ২৩ টির মত রয়েছে প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট, উপাসনালয়ের আঙ্গিনায় ক্ষতি ইত্যাদি। এই সমস্ত ঘটনায় জানান দেয় মোহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বে বাংলাদেশের সনাতন হিন্দুদের উপর কি পাশবিক অত্যাচার চলছে। এইসব ঘটনায় সে দেশের অন্তবর্তী সরকারের পদক্ষেপ কী? এই প্রশ্নের মুখ ঢাকতে গিয়ে তারও এক জগাখিচুড়ির ব্যাখ্যা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস নিজে। ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার জানিয়েছে, ৫০টি ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০জনকে। অন্যান্য পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ২১টি ঘটনায়। যার মধ্যে রয়েছে, প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট, উপাসনালয়ের ক্ষতি। তবে খতিয়ান দিয়ে ইউনূস সরকার জানিয়েছে, বেশিরভাগ ঘটনাই নাকি অসাম্প্রদায়িক। সেগুলির কারণ জমি সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি, পূর্বশত্রুতা বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার মতে, সাম্প্রদায়িক নয়, অথচ সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত, এই ধরনের ঘটনা এক বছরে ঘটেছে ৫৭৪টি। এর মধ্যে ৩৯০টি ঘটনায় দায়ের হয়েছে মামলা। ইউডি মামলা হয়েছে ১৫৪টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯৮জনকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনায় জানুয়ারির শুরুতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। তার দিনকয়েক পরেই সে দেশে এক বছরে কতগুলি সংখ্যালঘুদের উপর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তার পরিসংখ্যান দিল ঢাকা। এতকিছুর পরও প্রশ্ন থেকে যায় কেন একটি স্বাধীন দেশ যেখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে। কেন বারংবার সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অত্যাচারের শিকার হতে হবে? তবে কি কৌশলে ইউনুস বাংলাদেশকে সনাতন হিন্দু বিহীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছেন। প্রশ্নটা টিম নিউজ বর্তমানের পক্ষ থেকে থেকেই যাচ্ছে।












Discussion about this post