কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কি কখনও রাজনৈতি কৌশলের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে? অবশ্যই পারে। বিশেষ করে সেখানে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকে দেখা যায়। শনিবার ছিল পবিত্র ঈদ। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নমাজ পড়েন রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একসঙ্গে তাদের এই নমাজ আদায় নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ৫ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।এর ৫ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। কে না ছিল না জাতীয় ঈদগাহে? এই ঈদ জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তাঁরা দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে ঈদুল ফিতরের নামাজ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী।
কী সেই রাজনৈতিক বার্তা, তা নিয়ে আলোচনার আগে দুই বছর আগের একটি চিত্র নিয়ে আলোচনা করা যাক।
২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে যেন এই রাজপ্রাসাদে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু ইউনূস সরকার সেই রেওয়াজে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে। ”রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কথায়, “ আমাকে দুইটি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি। নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না। ” চুপ্পুর খেদের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, “বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি; জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা ওই দিবসগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু তিনি আসেননি। এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়।”
এবার ফেরা যাক মূল বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে জাতীয় ঈদগাহে আমন্ত্রণ করলেন। উদ্দেশ্য একটাই যাতে রাষ্ট্রপতিকে দেখে প্রধান বিরোধীদলনেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সেখানে যেতে না পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই বার্তা দিয়ে রাখলেন, যে বিরোধী দল যতই রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলুক না কেন, সরকার এই রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে কোনওভাবেই সরিয়ে দেবে না। এটা জেনেও যে এই রাষ্ট্রপতি একজন আওয়ামী লীগার। তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন হাসিনা। এই প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দেওয়া ভাষণটিও উল্লেখ করতে হয়। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর ভাষণে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্র। অনেকে এখন বলছে, সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে তাঁর পদে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসলে বিএনপিকে তাঁর তরফে প্রতিদান।












Discussion about this post