জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়ন ও জুলাই সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কথা ভাবছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঈদুল ফিতরের পরই কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে দল দুটি।
জুলাই আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ফলে জুলাই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের শেষ সময় ছিল গত রোববার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সেই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।
এতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে নতুন করে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ নিয়ে বিতর্ক করেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে জামায়াত ও এনসিপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে একাট্টা অবস্থানে থাকলেও বিএনপি সংবিধানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকার বলেছে, এ ধরনের কোনো পরিষদ করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। দলটির নেতারা বলছেন, সংবিধানে নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে, দুটি অধিবেশনই ডাকার কথা। কিন্তু অধিবেশন ডাকা হয়েছে শুধু জাতীয় সংসদের। বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্যের শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। এতে বোঝা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের আগের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে, সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে চলে গেছে। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের অপমান করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আমরা গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। জনগণের রায় প্রত্যাখান করার কোনও সুযোগ নেই। সরকারকে সেই সুযোগ আমরা করে দেব না। এ ছাড়া সংস্কার পরিষদ গঠনসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে কোনও ধরনের টালনবাহানা করলে আমরা যে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করতে বাধ্য হব। ”
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলের দাবি, তাদের ফল আরও ভালো হত। একাধিক আসনে কারচুপি করা হয়েছে বলে দলটির তরফে দাবি করা হয়েছে। তাদের হিসেবে অনুযায়ী, কমপক্ষে ৩০টি আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, তিনি বলেন, “৩০টি আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে। এসব আসনে পুনর্গণনা ও ফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি। প্রয়োজনে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “যেসব আসনে পাঁচ থেকে দশ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফল হয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।”
সংবাদসম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ডা. আবদুল মান্নান কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি দেখিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। জামায়াতের আরও দাবি, খলিলুর রহমান এবং সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানকে দিয়ে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করিয়েছে। আর তার পুরস্কর হিসেবে খলিলুরকে বিএনপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। তার নাম অ্যাডভোকেট রিজওয়না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাঁর ভাষায় – “নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। তখনই বোঝা যায়, যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।”












Discussion about this post