বাংলাদেশে প্রথম ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে একটি সংশয় ছিলই। আর সেটাই সত্যি হল। রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলা শুরু হয় সংসদে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভাষণে শেখ হাসিনা সরকারকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়েছে। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। যে সরকারের আমলে তিনি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে ছিলেন, সেই সরকারকে তিনি কাঠগড়ায় তুলছেন। কিন্তু একপক্ষ এটাও বলছেন, যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দেয় ক্ষমতাসীন সরকার। সেখানে নিজে থেকে কোনও বক্তব্য রাষ্ট্রপতি বলতে পারেন না। তবে যে যে বক্তব্য রেখেছেন রাষ্ট্রপতি, সেটা নিয়ে শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রবলভাবে আলোচনা চলছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। নর্থ ইস্ট নিউজ ইতিমধ্যেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করেছে। যেটা মূলত রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে। তারা বলার চেষ্টা করছে, যে ইম্পিচমেন্টের মুখে পড়তে চলেছেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে চাইছে। তবে কি মুহাম্মদ ইউনূসের মতোই এই পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে?
বাংলাদেশে যখনই কোনও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়, যখনই কোনও বদল আসে, মাঝখানে পড়ে যান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি যেমন দেশের প্রথম নাগরিক, তাঁকে সাংবিধানিক প্রধান বলা হয়, ঠিক অন্যদিকে তাঁকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাঁকে সেইভাবেই ব্যবহার করে। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নর্থ ইস্ট নিউজ বলছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইম্পিচমেন্টার ট্র্যাপে পড়তে পারেন।
তারা বলছে, বিএনপি ও জামায়াত-ই ইসলামী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন। যা তাঁকে ইম্পিচমেন্টার দিকে চালিত করতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে পদে মর্যাদা সমুন্নত রাখার এবং সত্যবাদিতা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ গ্রহণকারী একজন প্রাক্তন বিচারকের বিরুদ্ধে এখন মিথ্যে বলার গুরুতর অভিযোগ আসছে। এমনকি বিএনপি, জামায়েত, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে। এমনটাই অভিযোগ। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করছে নর্থ ইস্ট নিউজ। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা হচ্ছে। এমনকি বিরোধী দল জামায়েত-ই ইসলামী হট্টগোল শুরু করে। এমনকি সরকারি দলের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে নিয়ে যখন প্রবলভাবে হট্টগোল বাধে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের আসনে শান্ত হয়ে বসেছিলেন। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টায় করেনি। এমনকি সরকারি পক্ষের কোনও সদস্য কথা বলেননি। বরং তারা বিরোধী দলের আক্রমণ উপভোগ করছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি বক্তব্য শেষ হওয়ার পর, রহস্যময় হাসি দেখা গিয়েছে তারেকের মুখে। যেটা নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিজে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠে আসে। ৫ই অগাষ্ট রাতে দেশ ত্যাগ করার সময় তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন, যে রাষ্ট্রপতির কাছে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পত্র জমা করেছেন। কিন্তু কয়েক মাস পর তাঁর সেই ভাষ্য পাল্টে যায়। রাষ্ট্রপতি বলেন, তার কাছে কোনও পদত্যাগ পত্র নেই। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময় তিনি একাধিক সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। পরে দেখা গেল, ইউনূস সরকার চলে যেতেই তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে একটি গণমাধ্যমে। ফলে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তার হয়েই কথা বলেন সাংবিধানিক প্রধান। মূলত তাঁকে তেমনটাই বাধ্য করানো হয়। এখন যেমনটা বিএনপি করছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহলের তরফে। কেউ কেউ আবার বলছেন, সুদূর ভবিষ্যতে যখন বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে যাবে, তখন হয়ত তিনি বলতে পারেন, যে বিএনপি জোর করে তাঁকে এগুলি বলতে বাধ্য করিয়েছিল। ফলে নিজের পদ ধরে রাখতে সচেষ্ট বলে অনেকে বলছেন। তবে সরকার পক্ষ যে চালিত করে, গোটা দেশের রাজনৈতিক, সরকারি, প্রশাসনিক, সাংবিধানিক, বিচারবিভাগীয় দফতর, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাস দেখলেও বোঝা যায়। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post