বাংলাদেশের নির্বাচন তখন প্রায় দোড়গোড়ায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশ করা শুরু হয়েছে সম্ভাব্য ভোটের ফল। কোনও কোনও জনমত সমীক্ষায় বলা হল, ক্ষমতায় যাচ্ছে জামায়াত। তাদের পিছনে মদত রয়েছে আমেরিকার। আর ভোটের ফল কী হল, তা আমাদের সকলের জানা। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলে আশঙ্কা তৈরি হয় যে জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে যাবে। জামায়াত ক্ষমতা দখল করতে পারেনি ঠিকই। তারা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংবাদের শিরোনাম সূত্রে জামায়াত নেতা শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য তুলে ধরতে হয়। তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল। যদিও জামায়াতে আমির এবং তাঁর দলের দাবি, আইডি হ্যাক করা হয়েছিল।
এক্স এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া যে পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে তাতে বলা হয়, ‘নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা অনুশোচনামূলক নয়—এটা নীতিগত। আমরা মনে করি না, নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটা অনুমোদন করেন না। আমরা বিশ্বাস করি যে, যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, তখন এটি অন্য কিছু নয়, বরং অন্য রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই।’
এই পোস্ট নিয়ে সেই সময় বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সব বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাম ছাত্রদল এবং বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন জামায়াতের আমির। ঢাকায় ঝাড়ুমিছিল করে জামায়াতের আমিরকে প্রকাশ্যে নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়। শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। যদিও জামায়াতে ইসলামীর দাবি, ওই পোস্টটি শফিকুর রহমান বা তাঁর অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা করেননি। ওই অ্যাকাউন্টটি কিছুক্ষণের জন্য হ্যাক হয় এবং তখন পোস্টটি করা হয়। আর বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি তারা হ্যাকারদের দখল থেকে ফিরিয়ে এনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এ ছাড়া এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে একটি বিশেষ দল ও তাদের সাইবার টিম জড়িত বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
ঘটনার প্রায় দেড় মাস বাদে জামায়াতের আমিরের সেই পোস্টটি উল্লেখ করার কারণ রয়েছে। উল্লেখ করার কারণ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। নারী বিদ্বেষী একজন নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। বলা হচ্ছে, তারেক রহমানের মাথায় তাঁর আশীর্বাদ রয়েছে। তাঁর মতে, মহিলারা একটি “বিপজ্জনক বস্তু”। তাঁর সঙ্গে জামায়াতের মিল কোথায়? শুধু মিল নয়, এরা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। শফিকুর রহমানের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক ইউসুফের তফাৎ – প্রথমজনের ভাষা মার্জিত। তার কারণও রয়েছে। শফিকুর রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত নেতা। তাই, তিনি মহিলাদের সমালোচনা করেছেন অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত ভাষায়। তুলনামূলকভাবে আব্দুর রাজ্জাক ইউসুফ জামায়াতে আমিরের মতন উচ্চশিক্ষিত না হওয়ার তাঁর মুখে ভাষা সেরকম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ঘোরাফেরা করছে। ছবির সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বর্তমান। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় দুঃস্থ শিশু, ওলামা-মাশায়েখদের জন্য একটি ইফতারের আয়োজন করেছিলেন তারেক রহমান। ওই ইফতারে দেখা গিয়েছে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফকে। কথার ফাঁকে তিনি তারেক রহমানের মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন। ইউসুফের পাশে রয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহকেও। তাঁর সঙ্গেও দীর্ঘ আলাপ করতে দেখা যায় তারেককে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বাংলাদেশে তালিবানি শাসন কায়েম হতে চলেছে?












Discussion about this post