গ্রেফতারের পথে ইউনূস?
প্রশ্ন তোলার কারণ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেফতার। সোমবার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রাক্তন এই সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘তারা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তাদের থেকে আরও টাকা দাবি করতেন। তাঁর মাথায় হাত ছিল এক দলীয় এমপির। প্রাক্তন এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করলে তিনি তদন্তে প্রভাব খাটাবেন। কারণ, তাঁর সঙ্গে বিএনপি সরকারের এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। মন্ত্রীর আশীর্বাদী হাত থাকার পরেও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে তারেক রহমান বুঝিয়ে দিতে চাইলেন যে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
প্রশ্ন হল, মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেই কি থেমে যাবেন তারেক প্রশাসন? মাসুদকে গ্রেফতারের কারণ ক্ষমতা থাকাকালীন তিনি তারেক রহমানের ওপর অত্যাচার করেছিলেন। কিন্তু এই শারীরিক নির্যাতনের পিছনে অন্য কারও সম্মতি ছিল না? ইকবাল করিম ভুঁইয়া কেন এখন বাইরে?। সদ্য সাবেক হওয়া জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকেই বা কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? আর ১ /১১ সরকার বা ২৪-য়ের জুলাই অগাস্ট অভ্যুত্থানের যিনি খলনায়ক, তাঁকেই বা কেন তারেক রহমান গ্রেফতার করছেন না? এর মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান যেমন শেখ হাসিনার আত্মীয় তেমনই মাসুদ উদ্দিন খালেদা জিয়ার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মাসুদ উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হন। সেই তাঁর বিরুদ্ধে খালেদার সঙ্গে বেইমানি করার অভিযোগ ওঠে। যেমন একই অভিযোগ উঠেছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১ /১১ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই সময়ের একজন সেনাকর্মকর্তা গ্রেফতার কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, বিচার কি সবার জন্য হচ্ছে না কি শুধু নির্বাচিত কিছু ব্যক্তির জন্য। জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে নির্যাতনের অভিযোগে। কিন্তু সেই সময়ের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখনও বাইরে কেন? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যাদের অনেকেই মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখেন, তারা কি সত্যিই বিচারের বাইরে? ইকবাল করিম ভুঁইয়া তার মধ্যে অন্যতম। আর পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? শোনা যায় তিনি তারেককে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাতাসে ভাসা গুঞ্জন অনুযায়ী, জিয়ার প্রয়াণের পিছনে তাঁর হাত ছিল। ১ /১১ এবং ২০২৪-য়ের গোলমালের পিছনে হাত ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। দেশ শাসন করতে নয়, শাসনক্ষমতা ভোট করতে। আর তার আমলে বাংলাদেশে কী হয়েছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না।
বিএনপির বরাবরের অভিযোগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রায় দু বছর তাদের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন তৎকালীন লেফ্ট্যান্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন। সময় মত ভোট হলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসতো বলে দলটি মনে করে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে ২০০৮ -এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় আওয়ামী লিগ। সেই থেকে টানা ১৬। বছর ক্ষমতায় ছিল দলটি। অন্যদিকে একটানা দু দশক ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি। যদিও রাজনৈতিক মহল বলছে, ইউনূসের গ্রেফতারি সময়ের অপেক্ষা। তাঁকে কখন গ্রেফতার করা হবে, সেটা জানিয়ে দেবে দিল্লি।












Discussion about this post