প্রতিবেদন শুরু করার আগে ভারতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অভিজিতের একটি গানের লাইন আপনাদের জানাই ‘আরো কাছাকাছি আরো কাছে এসো’গানটি মূলত প্রেমিক প্রেমিকা প্রেম পর্বের এক গুপ্ত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। সে যাই হোক এখন সেই সব প্রেমিক যুগলের মতনই অবস্থা হয়েছে ইউনূস-নওয়াজ শরীফের যদিও এই যুগল আরো কাছাকাছি আসতে পেরেছে ভারতের দৌলতে বলতে পারেন ভারতের বড় সিদ্ধান্তে। ভারত-বাংলাদেশে চাল রপ্তানি একপ্রকার বন্ধ করতেই বসেছে। আর ঠিক সেই সময় উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক স্থবিরতার পর এবারে ইসলামাবাদ সরাসরি ঘরোয়া বাজার থেকে এক লক্ষ টন চাল কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে, যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে রফতানি। ঠিক প্রেম পর্বে যেমন তৃতীয় ব্যক্তির দৌলতের ফেলে আসা অতৃপ্ত প্রেম পুনরায় মিলে যায়। এখানেও ঠিক তেমনই ঘটেছে। বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে ‘কাউকে গায়ে মারার থেকে পেটে মারা অনেক বেশি কষ্টদায়ক’আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত ঠিক এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের পরিবর্তিত উত্তাপ ও নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ছবিও তুলে ধরছে।শেখ হাসিনা-পরবর্তী জমানায় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে পাকিস্তান দৃঢ় আগ্রহী। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় এক দশক পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়। তারপর ধাপে ধাপে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছে ইউনূসের ঢাকা। আর এবার তার দ্বিগুণেরও বেশি চাল-এক লক্ষ টন-রফতানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ। যার ফলস্বরূপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। ইউনুস বরাবরই হাসিনা বিরোধী তা সবাই বোধগম্য কিন্তু ইউনুস যে বাংলাদেশ বিরোধী তা আগে কেউ হয়ত কোন টের পায়নি। কারণ যে পাকিস্তান ভেঙে লড়াইয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান জন্ম দেয় সেই পাকিস্তানের পা ধরতে ইউনুসের বিন্দুমাত্র লজ্জায় বাঁধে না কিন্তু আবার ১৯৭১এ যে ভারতের সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্য সেই ভারতের পিছনে ছুরি মারতে দ্বিধা করে না ইউনূস।
এটাই বোধ হয় মিস্টার নোবেল জয়ীর প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত।
ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলাদেশের বাজারে গত কয়েকদিনে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খাদ্য পরিকল্পনা এবং পরিধারণ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মোটা, মাঝারি ও সরু-সব রকম চালের দামই বেড়েছে। তার একমাত্র কারণ ইউনুস ভারত সম্পর্কের চিটফাট এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভারতের সাথে দূরত্ব তৈরি। এখন মোটা চালের দাম দাঁড়িয়েছে ৫২.৪৩ টাকা, মাঝারি দানার ৬২.৪৩ টাকা এবং সরু দানার ৭৭.১০ টাকা । অন্যদিকে আরো একটি তথ্য জানাচ্ছে, বাস্তবে দাম আরও বেশি। এমনকি ঢাকার কিছু জায়গায় সরু দানার দাম ৯০ টাকা ছাড়িয়েছে।
চালের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির অস্থিরতা সামলাতে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার নতুন করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সাথে চুক্তিপত্র করে আমদানির দরপত্র ডেকেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাতে ছাড়াও দিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সময়ে পাকিস্তানও ঘরোয়া বাজার থেকে লম্বা দানার সাদা চাল কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করত। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ পাকিস্তান দরপত্র প্রকাশ করে, যা জমা দিতে হবে আগামী শুক্রবারের মধ্যে। প্রাপ্ত চাল করাচি বন্দর থেকে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় বাংলাদেশের বন্দরে জাহাজে করে পাঠানো হবে। এতে দু’দেশের অতৃপ্ত সম্পর্ক যা হাসিনা সময় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি তা ইউনুসের ভাঙ্গা গড়ার খেলায় এক অন্য মাত্রা দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।আরও বন্ধুত্ব বাড়ছে পাকিস্তান-বাংলাদেশের। শুধু তাই নয় চুক্তির আগেই ইতিমধ্যেই ঢাকাকে এক লক্ষ টন চাল দিয়েছে ইসলামাবাদ। ভিক্ষা করার আগে ভিক্ষুক যেমন দু পয়সা হাতে রাখেন পাকিস্তানের সেই চাল অগ্রিম দেওয়ায় যে ইউনূসের বাংলাদেশকে পায়ের তলায় লুটিয়ে ফেলতে চলেছে তা বিদেশী শক্তির বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না
এদিকে হাসিনা জমানায় এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। কারণ সেই সময় হাসিনার সাথে ভারতের সুসম্পর্ক থেকেই ভারত বাংলাদেশকে চাল আমদানি করে আসতো। কারণ সে সময় রাজনৈতিক দূরত্ব বাণিজ্যের পক্ষে অনুকূল ছিল। ২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত থেমে যায়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ইউনুস আসনে বসেই নতুন করে বাংলাদেশে চাল রফতানি-কে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের সক্রিয়তা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে শুধু বাণিজ্য নয়, রাজনৈতিক বার্তাও আছে-ঢাকার নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার কৌশল।বাংলাদেশে চালের বাজারে পাকিস্তান থেকে আমদানি বৃদ্ধি দেশের ভোক্তা বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করছে অনেকে। বিশেষ করে যখন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে এবং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক আমদানি দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পাকিস্তান থেকে আগত এই চাল সরবরাহ দেশের মজুত বৃদ্ধি করবে এবং বাজারে চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মত প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূসের।
এমনকি অন্যদিকে পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন বাংলাদেশের বাজার পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত লাভজনক এবং ভবিষ্যতে আরও বড় রফতানি-বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। এবং ইউনূসের রাজত্বেই পাকিস্তান বাংলাদেশ যে মাখোমাখো প্রেম তৈরি হয়েছে সে কথাও বলতে ভোলেননি তিনি।তাই এবার আরও এক লক্ষ টন চাল রফতানির পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান।পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, বাংলাদেশে লম্বা দানার সাদা চালের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এবং বাংলাদেশে ভারতের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় এই সুযোগ পাকিস্তান চাল রপ্তানি করে নিচ্ছে।সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ যে শুধুই বাণিজ্য নয় এর পিছনে যে ভারত বিরোধী ইউনূসের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ার অন্য গন্ধ রয়েছে তা সুস্পষ্ট। চাল আমদানি থেকে শুরু করে ভারত বিরোধী দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি দেশ অর্থাৎ পাকিস্তান বাংলাদেশ তাদের ইউনূসের রাজত্বে প্রেমের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটিই এখন দেখার বিষয়।।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post