ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাপ্রধান ওয়াকার মুখে যা বললেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেটা তিনি হাতে কলমে দেখাতে পারলে তদারকি সরকার প্রধানের কপালে দুঃখ আছে। জেনালের ওয়াকারের ‘কথামৃত’ থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট। এক ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর ইউনিট কারও পক্ষ নেবে না। ইউনিট সেদিন বাংলাদেশের পক্ষে নেবে। দুই ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠ হয়, তার জন্য তাঁর ইউনিট পারলে জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করবে না। সেনাপ্রধানের এই রণহুঙ্কারে তদারকি সরকার প্রধানের কপালে চিন্তার ভাজ আরও চওড়া হওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ। যমুনাভবনের বাসিন্দাকে সেনাপ্রধান ওয়াকার দিলেন আলটিমেটাম। প্রশ্ন হচ্ছে জেনারেল আচমকাই কেন এত কড়া বার্তা দিলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা দেওয়া ছাড়া তাঁর আর হাতের সামনে অন্য কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। এটা অনেকটা পাপস্খালন। শুদ্ধিকরণ বললেও অত্যুক্তি হবে না।
সেনাপ্রধান এই বক্তব্য রাখেন অফিসার্স অ্যাড্রেসে। গত রবিবার ১৮ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সৈনিকদের পাশাপাশি বাহিনীর অফিসারদেরও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাপ্রধান ওয়াকারউজজামান স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে কোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত বা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। সভায় ঢাকার বাইরে যে সব সেনাকর্মকর্তা রয়েছেন, তারা ছিলেন অনলাইনে। কী বলেছেন জেনারেল ওয়াকার, সেটা এখানে তুলে ধরা হল।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন একটি সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে যাতে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট দিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়িতে ফিরতে পারবেন। ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনও ধরনের ভয় চাপ বা প্রতিবন্ধকতা যাতে তৈরি না হয় সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক পক্ষের নয়, বাহিনী রাষ্ট্রের পক্ষে, সংবিধানের পক্ষে। সর্বোপরি জনগণের পক্ষে।
সেনাপ্রধান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের পর তাঁর ইউনিট ব্যারাকে ফিরে যাবে। বাহিনীর দায়িত্ব নির্বাচন চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই পর্যন্তই তার এক্তিয়ার। নির্বাচন শেষে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনও ভূমিকার প্রশ্ন ওঠে না।
বৈঠক থেকে বার্তা দিয়েছেন গুজব, অপপ্রচার, উস্কানি কড়া হাতে মোকাবিলা করার। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজব নিয়ে জেনারেল ওয়াকার রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাহিনীর প্রতি তাঁর বার্তা সেনাসদস্যদের এই সব পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। দেখাতে হবে সংযম। বাহিনীর জন্য তাঁর বার্তা, ‘কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য বা ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন কিছু করা যাবে না যা উল্টে উস্কানিদাতাদের উদ্দেশ্য সফল হয়। ’
একই দিনে তদারকি সরকার প্রধানের নেতৃত্বে তাঁর কার্যালয়ে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার –উজ –জামান নির্বাচনে লুঠ হওয়া অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
সভায় সেনাপ্রধান জানান, ২০২৪-য়ের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে সর্বমোট তিন হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুঠ হয়েছে। অভিযানের মধ্যে দিয়ে লুঠ হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দুই হাজার ২৫৯ টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুঠ হওয়া অস্ত্রের ৬২.৪ শতাংশ। বিভিন্ন থানা থেকে মোট চার লক্ষ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুঠ হয়েছিল। এর মধ্যে দুই লক্ষ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট পরিমাণের ৫২ শতাংশ। অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট, বিদ্যুৎ-জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহানির্দেশক, বিজিবি, র্যা ব, কোস্টগার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান।
ক্ষেত্র প্রস্তুত। এবার ভোটের মুখে সম্মুখ সমরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তদারকি সরকার। আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন...
Read more












Discussion about this post