“হাইলি সাসপিসাস”।
এটা কে বলেছিলেন, সেটা আশাকরি সকলের জানা। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার সঙ্গে যাদের ইস্তক পরিচয় রয়েছে, তারা সকলেই জানেন। সংলাপটা বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে অমন কায়দা করে উচ্চারণের জন্য। এই প্রতিবেদনের শিরোনামের সঙ্গে জটায়ুর সেই বিখ্যাত উক্তি মিলে যায়।
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি এই ভোটকে অবাধ ও সুষ্ঠ করতে বদ্ধপরিকর। তার জন্য সরকারের তরফ থেকে যা যা করার, সেটা তিনি করবেন। অপর দিকে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে দেশবাসীকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের প্রতিটি নাগরিক ১২ ফেব্রুয়ারি যাতে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটা তারা নিশ্চিত করবেন। যদিও এই আশ্বাস জেনারেল ওয়াকার কতটা পূরণ করতে পারবেন, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর ভোট যত এগিয়ে আসছে, আরও একটা প্রশ্ন জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে – ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট আদৌ হবে তো?
যা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, সেটা হল সেনাবাহিনীর ভূমিকা। জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে বাহিনীর কাজকর্মের ওপর নজর ছিল যেমন বাংলাদেশবাসীর, কড়া নজরে রেখেছিল ভারত-সহ অন্যান্য দেশও। বাহিনীকে আগে রীতিমতো শ্রদ্ধার চোখে দেখা হত। বাহিনীকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ রীতিমতো গর্ব করতেন। কিন্তু জেনারেল ওয়াকারের একের পর এক ভুল পদক্ষেপের কারণে তিনি নিজেও যেমন হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে, বাহিনীকেও হাস্যরসের উদ্রেকে পরিণত করেছেন।
বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সেনাপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যখন জেনারেল ওয়াকারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন, সেই সময় গোয়েন্দাদের তরফে তাঁর কাছে একটি গোপেন রিপোর্ট পাঠানো হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ওয়াকারকে যেন কোনওভাবেই সেনার সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ না করা হয়। কিন্তু হাসিনা সেই রিপোর্ট মানতে অস্বীকার করেন। শত হলেও ওয়াকার উজ জামান তাঁর নিকটআত্মীয়। তাছাড়া কোনও এক আশ্চর্য জাদুতে তিনি হাসিনার মন জয় করতে সক্ষম হন। ফলে, বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁকেই বাংলাদেশ স্থলসেনা প্রধানপদে নিয়োগ করেন। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার। হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর তিনি। নায়ক থেকে খলনায়কে পর্যবসিত হন। তাঁর বাহিনী হয়ে ওঠে তদারকি সরকারের দাসানুদাস। সেটা করার ফল তিনি হাতে-নাতে টের পেয়েছেন।
বাংলাদেশ সেনাকে উদ্দেশ্যে করে উড়ে এসেছে গালিগালাজ। শুনতে হয়েছে কটু মন্তব্য। এমনকী বাহিনীর একাংশের মধ্যে ওয়াকারকে নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। হাসিনা আমলে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাহিনীর কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত সেনাকর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশ করার বিষয়ে তিনি তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে শলা করেছিলেন বলে খবর। সেই বৈঠকে উপস্থিত বাকি সেনাকর্তারা জেনারেলকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের। সেনাপ্রধান তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত অটল থাকেন। তাঁর ওই এক হঠকারী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সেনার মান মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে। ভোটের মুখে জেনারেল ওয়াকারের বোধদয় হয়েছে। যাকে বিলম্বিত বোধদয় বলা যেতে পারে। তাঁর মনে হয়েছে সেনার মান সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হবে। দেশবাসীর আস্থা অর্জন করতে হবে। তাই সেনাসদস্যদের বলেছেন ভোটের দিন তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব বাংলাদেশ সেনার। ১২ ফেব্রুয়ারি ওয়াকার দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন কি না সেটাই এখন দেখার। তবে তার থেকেও বড়ো প্রশ্ন – ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট হচ্ছে তো?












Discussion about this post