গোপালগঞ্জের ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়া কি? এই প্রশ্ন উঠে আসছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ভারতের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ বুঝে গিয়েছে, ভারত তাদের পাশে নেই। এরপর বাংলাদেশের তরফ থেকেও একটি খবর সামনে এসেছে। আলজাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চীনের সৃষ্টি করা ওই জোটে থাকবে না। আসলে এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও সাহস নেই বাংলাদেশের। অর্থাৎ গোপালগঞ্জের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তাদের অবস্থার নতুন একটি অধ্যায়ের জন্ম দিল। অনেকে বলছেন, এ কুকর্ম করলেন সেনা প্রধান, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করলেন, তাতে কি তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন? কারণ শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের ঘটনার পর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তার নির্দেশেই কি অ্যাকশনে নামলো ভারত?
জানা যাচ্ছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে গোপালগঞ্জ নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল খুব সংক্ষিপ্ত আকারে বলেন, আমরা আমাদের অঞ্চলের সব ঘটনা প্রবাহ ঘনিষ্টভাবে অনুসরণ করি এবং যা ঘটছে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনে আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখানেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, তবে কি ভারত কোনও বড় পদক্ষেপ করতে পারে?
এদিকে মাইকেল কুগেলম্যান পোস্ট করেছেন, বাংলাদেশের হানিমুন পিরিয়ড শেষ। এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি শেষ হয়েছে, সেটা প্রমাণিত।
আসলে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের ঘটনা অনেকগুলো প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছিলেন, নিরীহ ছাত্রদের ওপর গুলি চালাবো না। এমনকি সেনাপ্রধান বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানোর কালচার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেই। তাহলে সামান্য বিক্ষোভ ঠেকাতে কেন সেনাবাহিনীর সাজোয়া গাড়ি নিয়ে যেতে হল? কেন গুলি চালাতে হল? গোপালগঞ্জের ঘটনায় চূড়ান্ত মানব অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই ঘটনার পর ভারত যে কোনও ভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে না সেটা প্রমাণিত।












Discussion about this post