বাংলাদেশে এখন ঘটনার ঘনঘটা। সে দেশে ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হচ্ছে পরিস্থিতি। রবিবার হঠাৎ করেই জামাতের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে কি আলোচনা হল? কেনই বা এই বৈঠক? তবে খবর রয়েছে, শুধুমাত্র জামাতই ইসলামী নয়, হেফাজতি ইসলমের একাংশ, এবং ইসলামিক শাসনতন্ত্র আন্দোলন.. তিনটি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান। জানা যাচ্ছে, মহম্মদ ইউনূসের তরফে জামাতই ইসলামী সহ আরও দুটি রাজনৈতিক দল সেনাপ্রধানের কাছে গিয়েছিল সেনাপ্রধানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে। সম্প্রতি সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে যে সম্পর্কটা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে মসৃণ করার জন্য। এদিকে সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইলেও মোহাম্মাদ ইউনুস আগামী বছরের জুন মাসের নির্বাচন চাইছেন। এদিকে সেনাবাহিনী নির্বাচনের জন্য ৯০ দিন সময় দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। এই খবর প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে।
কিছুদিন আগেই ২১ মে অফিসার্স এন্ড অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই করতেই হবে। এছাড়া আরো বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন যেগুলিতে চাপে পড়ে গিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কারণেই মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগের নাটক করেছিলেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। যদিও পরে তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যে টানাপোড়েন, সেটা স্পষ্ট। এর জেরেই ইউনূসের পক্ষ থেকে জামাতই ইসলামী সহ রাজনৈতিক দল সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন আসলে মধ্যস্থতা করতে। জানা যাচ্ছে গোপন সূত্রে। এরপরই দেখা যায়, সেনাবাহিনীর তরফ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এবং তাদের তরফে জানানো হয়, সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনও টানাপোড়েন নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আদলে এটি হল মধ্যস্থতার ফসল।
অন্যদিকে ২২ মে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ট্রেসী এন্ড জ্যাকবসন নাকি আমেরিকায় গিয়েছেন। কিন্তু এই তথ্যটি আসলে ভুল। জানা গিয়েছে, তিনি গতকাল কাতারের উদ্দ্যেশে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। তার সঙ্গে গিয়েছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে একটি বৈঠক হওয়ার কথা বলে জানা গিয়েছে। আর সেই বৈঠক মানবিক করিডর নিয়ে হতে পারে বলে খবর। এদিকে জানা যাচ্ছে, জামাতই ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল কাতারে গিয়েছে।
এদিকে সেনানিবাসে ফের সেনাপ্রধান গুরুত্বপুর্ণ একটি বৈঠক করেছেন বিভিন্ন সেনাকর্তাদের নিয়ে। সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যমত কমিশন গঠিত হয়েছে। এর চেয়ারম্যান তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি নিয়েই সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাজেই অভিযোগ আনা হচ্ছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেগুলি নিয়েই এই বৈঠকে সতর্ক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনানিবাসে মানবিক করিডর নিয়ে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র মিয়ানমার নয়, যে সমস্ত দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করছে, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে যেন সুসম্পর্ক রাখে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও ভারতের সঙ্গে পুশ ইন নিয়ে যে সমস্যা, সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। যদিও সেটি বিজিবি দেখছে। এছাড়াও বাংলাদেশের মাটি অন্য দেশের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই পাশাপাশি সেনাবাহিনী তরফে মিডিয়ার সামনে যে সমস্ত বক্তব্য রাখা হচ্ছে, সেগুলি যেন খুব তথ্যসহকারে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়, সেটা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ সেনা নিবাসে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য।












Discussion about this post