বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন। আর এই নির্বাচনের মুখে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হচ্ছে। অন্তত তারা যা করছে,তাতেই খবরের শিরোনামে আসছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করছেন। এবং সেই সংবাদ সম্মেলন নানাভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেটা নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শোনা যাচ্ছে, ২৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করবেন। ভার্চুয়ালি তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। হঠাৎ করে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন কেন করছে আওয়ামী লীগ ? এর পিছনে ঠিক কি কারণ? এমন নানা বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আওয়ামী লীগ কি আগের থেকে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে? নাকি সমর্থন বৃদ্ধি পেতেই এই প্রচেষ্টা? দিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলন সামনে এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন ওই সংবাদ সম্মেলনে। আর একটি সংবাদ সম্মেলন হবে ২৩ জানুয়ারি। যেখানে একাধিক মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি থাকবেন শেখ হাসিনা। এই প্রথম ভারতের মাটিতে সংবাদ সম্মেলন করল আওয়ামী লীগ। দলটির বহু নেতা এর আগে নানাভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ভারতে বসে একাধিক অডিও বার্তা দিয়েছেন। এমনকি ভার্চুয়ালি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডন প্রবাসী ড. নিঝুম মজুমদার বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, হাসান মাহমুদ বা নওফেল কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে আসেননি। তারা তাহলে কোন পরিচয়ে উপস্থিত হলেন? এই প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার কার্যালয় যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এটা যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই গত শনিবারের এই সংবাদ সম্মেলন আওয়ামী লীগের। হাসান মাহমুদ এবং নওফেল চৌধুরী আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে সেখানে উপস্থিত হননি। এই প্রতিবেদনটি যে এক তরফাভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই তারা এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে এই প্রথম নয়। এর আগে জেনেভায় তারা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
এদিকে ২৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হবেন কিনা, সেটা নিয়ে নানাভাবে আলোচনা চলছে। শীর্ষক সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও…এই শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন হবে শুক্রবার। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ফরয়েন ক্রসপনন্ডেন্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়া। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারি। আওয়ামী লীগের যেহেতু নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ। এমনকি যেহেতু বাংলাদেশে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারছে না আওয়ামী লীদ, তাই তারা ভারতের মাটিকে বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে সংবাদ সন্মেলন করে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছে। অন্য়দিকে অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, ভারতের মাটিকে আওয়ামী লীগের জন্য ব্যবহার করতে দিয়ে ভারত মুশকিলে পরবে। কারণ শেখ হাসিনা একজন মৃত্যদণ্ড সাজা প্রাপ্ত আসামী। একদিকে তাকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার অডিও বার্তা বন্ধ করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছিলেন। যদিও নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে কন্ট্রোল করতে পারা যায় না। অর্থাৎ সরাসরি বাংলাদেশের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে ভারত। এখন ভারতের মাটিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে আওয়ামী লীগ। তাতে কি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সত্যিই বেকায়দায় পরতে পারে ভারত? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেখানে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের নির্বাচন থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এটার জন্য তখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জবাববিহি করতে হবে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য রাখার জন্য ভারত সেই জায়গাটা করে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে কোনওভাবে বেকায়দায় পরবে না। ফলে এখন দেখার, যদি শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অংশ নেয় সংবাদ সন্মেলনে, সেখানে কি বার্তা দেন!












Discussion about this post