বাংলাদেশের ভোটের আর বেশিদিন বাকি নেই। ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। অংকের হিসেবে মাত্র ২১ দিন। এই ভোট হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিকদল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই। খাতা কলমে তাঁরা ভোটের ময়দানে না থাকলেও ভীষণভাবেই রয়েছে। বলা হচ্ছে, আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে। ভোটের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের ভোট নিয়ে সর্বশেষ বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। একটি জনমত সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশের মোট ভোটের ৯০ % বিএনপি’র পক্ষে যাবে। জামাত-ই-ইসলামি পেতে পারে ১৯ শতাংশ ভোট। কিছু কিছু সমীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে, জামাত এবং বিএনপির মধ্যে হবে কাঁটে কি টক্কর। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনে লডাই মূলত বিএনপি নেতৃত্বাধীন মধ্যডানপন্থী জোট এবং জামাত-ই-ইসলামি নেতৃত্বাধীন অতি ডানপন্থী জোট। কয়েকমাস আগেও যখন শোনা যাচ্ছিল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেই সময় যে সব জনমত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সব সমীক্ষায় দেখা যায় হাসিনার দল আওয়ামী তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে বিএনপি, তাদের পরেই জামাত। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামাত মূলত মৌলবাদী দল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা তাদের অবস্থান এখন আগের থেকে অনেকটাই বদলে নিয়েছে। কিছুদিন আগে জামাত নেতা শফিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায় যে দেশের স্বার্থে তারা বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে রাজি।
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ –য়ে দলের তরফে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি রূপরেখা দেওয়া হয়। সেই রূপরেখার শিরোনাম ‘নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’। সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, “ দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়, বরং এটি ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য শাসন ব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ” জামায়েত আমির বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা অনুযায়ী, শিক্ষা অনুযায়ী, কাজ খুঁতে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নারীরা এখনও কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য একটি সংকটেই দারিদ্র্যের দিকে ঝুঁকছে।’এই বাস্তবতাগুলো সৎভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে, শফিকুর বলেন, ‘শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।’ বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামাত যে সময়ের সঙ্গে নিজেদের অনেকটাই বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে, সেটা শফিকুরের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। ১২ ফেব্রুয়ারি তারা তাদের পক্ষে অনেকটাই ভোট টেনে নেবেন। বিএনপির নিজস্ব ভোট ব্যাংক তো রয়েছে। আওয়ামী লীগের একটা বড়ো অংশ তাদের পক্ষে যাবে। দলের অনেকে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের ফল তাদের পক্ষে গেলে পরে তারা বিএনপিতে যোগ দিলেও দিত পারে। আওয়ামীর ভোট বিএনপির পক্ষে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হচ্ছে, দলটি আগের থেকে অনেকটাই দূর্বল হয়ে পড়েছে। নেতাদের মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না, যার প্রভাব পড়ছে কর্মীদের মনে। সেই অংশের ভোট গিয়ে পড়বে বিএনপির বাক্সে। তাই, আওয়ামী লীগ ভোটে না থেকেও ভীষণভাবে ভোটের ময়দানে রয়ে গিয়েছে।
ত্রয়োদশ নির্বাচন যে সব দিক থেকেই কৌতুহল তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post