দেশ স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭১-য়ে। তারপর কেটে গিয়েছে ৫৪ বছর। এই ৫৪ বছরের রাজত্বে বাংলাদেশ একাধিকবার সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী। প্রথম ১৯৭৫-য়ের ১৫ অগাস্ট। ২০০৭-য়ের ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। সেনা সরাসরি ক্ষমতা দখল করেনি। কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে তারা সরকার নিয়ন্ত্রণ করত। বিডিআর বিদ্রোহের কথাও তুলে ধরা যেতে পারে। সেটাও এক ধরনের বিদ্রোহ। এসব বাদে সেনাবাহিনী বেশ কয়েকবার ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। কিন্তু সরকার সজাগ থাকায় তাদের সেই চেষ্টা জলে যায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, গত বছর ৫ অগাস্টের গণআন্দোলনকে কি সিপাহী বিদ্রোহ বা সেনা অভ্যুত্থান বলা যেতে পারে? টেকনিক্যালি বলা যেতে পারে না। কারণ, এই আন্দোলন ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। তবে বাংলাদেশের একাংশ মনে করছে, পিছন থেকে সেনাবাহিনী কলকাঠি না নাড়লে হাসিনা সরকারের পতন সম্ভব ছিল না।
এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি দৃশ্যের কথা তুলে ধরা যেতে পারে। সেই দৃশ্যের মধ্যমণি শেখ হাসিনা। একটি হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ বাদে একটি গাড়ি হেলিপ্যাডে ঢুকল। গাড়ি থেকে নামলেন শেখ হাসিনা। কড়া নিরাপত্তায় তিনি হেলিকপ্টারে উঠলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন এই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে, তখনও কিন্তু জানা যায়নি হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য। জানা গেল পরে যে বঙ্গবন্ধু কন্যা পৌঁছেছেন দিল্লি। আপাতত সেখানেই তিনি থাকবেন। প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশ কি দ্বিতীয়বার সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে চলেছে?
প্রথম দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে এই অনুমান করা সম্ভব ছিল না যে ঢাকা আরও এক দফায় সিপাহী বিদ্রোহের সাক্ষী হতে চলেছে। কারণ, তখন উত্তরপাড়ার সঙ্গে কর্তা আর যমুনা ভবনের কর্তা ছিলেন হরিহর আত্মা। কিন্তু এখন কেউ কারও মুখ দেখতে রাজি নয়। এমনকী রাস্তায় যদিও বা তাদের দেখা হয়, তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গে উলটো দিকে হাটতে শুরু করবেন। এমনকী রুদ্ধশ্বাসে দৌঁড়াতেও পারেন। এবার আসা যাক দ্বিতীয় অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে।
আমরা সকলে জেনে গিয়েছি, বাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চার্জ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) গঠন করতে চলেছে। এই ঘটনায় বাহিনীর মাথা অর্থাৎ সেনাপ্রধান ওয়াকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। গ্রেফতারের ঘটনায় বাহিনী এখন তিন ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষ আওয়ামীর দিকে, একটি পক্ষ সেনাপ্রধান ওয়াকারের পক্ষে, একটি পক্ষ জামায়াতের দিকে। ২৫ জনের মধ্যে ১৫জনকে সেনাবাহিনী তাদের নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এই নিয়ে আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটর তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছে, আদালত যেখানে রাখতে বলবে, সেখানে তাদের রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আবার তাদের কোন আইনে বিচার হবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এরা কিন্তু সকলেই আওয়ামীপন্থী নয়। আর তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ আদালতে অর্থাৎ আইসিটি-তে প্রমাণিত হলে তাদের আজীবন কারাবাস না হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে এদের কারা চিহ্নিত করছে আইসিটি? চিহ্নিত করেছে জামায়াত এবং বিএনপি। এরার রাজনৈতিক দিক থেকে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলেও একটি বিষয়ে তারা একবিন্দুতে। এরা সকলেই হাসিনা-বিরোধী শক্তি। আর তাতে সিলমোহর দিয়েছে ইউনূস সরকার।












Discussion about this post