বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের গ্রেফতার এবং তৎপরবর্তী অধ্যায় মনে করায় সুকুমার রায়ের একুশে আইন কবিতা। কবিতার একটি পংক্তির উল্লেখ করি –
‘সেথায় সন্ধ্যে ছ’টার আগে/, হাঁচতে হ’লে টিকিট লাগে/ ;হাঁচ্লে পরে বিন্টিকিটে/দম্দমাদম্ লাগায় পিঠে/,—কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে/—একুশ দফা হাঁচিয়ে মারে’ এককথায় হজবরল।
সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের গ্রেফতারের খবর গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে। এই গ্রেফতারি নিয়ে একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর নেই। একমাত্র পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। কারণ, তাদের সে অধিকার রয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কোথায় রাখা হবে, সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, আদালত যেখানে রাখার নির্দেশ দেবে, সেখানেই তাদের রাখতে হবে। এদিকে, সরকারের তরফে তাদের জন্য আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সব থেকে চাঞ্চল্যকর খবর হল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইসিটি সংশোধিত আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি রিট পিটিশন দাখিল হতে চলেছে। সেটা হলে এই বিচার প্রক্রিয়া বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যাবে। এর উদ্দেশ্য বাহিনী শীর্ষনেতৃত্বকে কোণঠাসা করা।
এবার দেখা যাক তাজুল ইসলাম কী বলছেন? আর্মির গ্রেফতারের ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটার বলে, এটা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। আদেশ পালনের সময় (সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা) ব্যাপারে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হবে না। অবহিত থাকার অর্থ যখন পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করবে, তারা অবহিত থাকলে সাহায্য করতে পারেন। যদিও অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, বিচার নিয়ে কোনও সংকট তৈরি হলে সেনাবাহিনীর তাদের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে আলোচনা করবে। প্রবীণ আইনজীবী হাসনাত কায়ুম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তারা অভিযুক্ত। অভিযোগের তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে।’চার্জশিট দাখিল হওয়া মাত্র তারা তাদের সরকারি পদ হারাবেন। তবে চূড়ান্তভাবে খালাস পেলে তারা তাদের পদ ফিরে পাবেন। সূত্র বলছে, ওই অস্থানীয় ভবন ঘুরে দেখেছেন আই জি (কারা) এবং কারা দফতরের পদস্থকর্তারা। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে কাঁটা তাদের বেড়া দেওয়া শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারাগার শব্দটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্যের হস্টেল, কিংবা যে কোনও সরকারি জায়গা। যেটাকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সেখানে তাদের রাখা হবে।’ এই বক্তব্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিউকিউটরের মতপার্থক্য রয়েছে। সরকার চাইলে অভিযুক্তদের তাদের তৈরি আবাসে রাখতে পারবেন না। রাখতে হবে আদালত যেখান তাদের থাকার নির্দেশ দেবে। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্বেগ, সবকিছুকে আইনে আওতায় নিয়ে আসা। কাউকে গ্রেফতার করা হলে তাঁকে অবশ্যই গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে।’ সেনা চাইছে, কর্মরত সদস্যদের বিচার চলাকালীন তাদের হেফাজতে রাখতে। সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালতে চিফ প্রসিকিউটর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post