মি. ডিপেন্ডবেল রাহুল দ্রাবিড় একবার বলেছিলেন, ‘Unwanted honking not only irritates others, but may also end up causing accidents. Drivers lose cool and itmay result in road rage.’
টি –টোয়েন্টি নিয়ে বাংলাদেশ যা করল, সেটা অনেকটাই রাহুল দ্রাবিড়ের ওই উক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। বাংলাদেশের আচার-আচরণে আইসিসি বিরক্ত। বিরক্ত ক্রিকেট প্রেমিরা। ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু বাংলাদেশ যে ভদ্রলোকের মতো আচরণ করেনি, সেটা গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা আসন্ন টি –টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। এই বিষয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। কী বলছেন আসিফ?
আসিফ জানিয়েছেন,“ এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা – এটা আমাদের সরকারি সিদ্ধান্ত। মাথা নত করে নিজের দেশের মানুষকে সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে ফেলে এই আঞ্চলিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে একটা জেনুইন রিস্কের মধ্যে নিজের দেশের শুধু খেলোয়ার না, দর্শক এবং সাংবাদিকদের ঠেলে দিলে কী ক্ষতি হতে পারে, সেটাও আপনাদের সবার বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আমরা এখনও আশা ছা়ড়ি নাই। আমরা আশা করব আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কটা সুবিবেচনার সাথে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে বিশ্বকাপে। আমরা সেই আশাবাদ নিয়ে এখনও অপেক্ষা করছি”.
ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। আসিসি বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। ক্রিকেটমহল একপ্রকার নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। দরকার ছিল একটা সরকারি ঘোষণার। আর সরকারিভা্বে বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়ার পর একপ্রকার মেজাজ হারায় আইসিসি। তার পাল্টা হিসেব আইসিসি বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করে দিয়েছে। এই কার্ডের মূল্য কতটা, সেটা একমাত্র তাঁরাই জানেন যারা সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্তি। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে অনেকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তাদের মতে, আইসিসি আগামীদিনে আরও বড়ো পদক্ষেপ করতে পারে, যে পদক্ষেপে ২২ গজের মানচিত্র থেকে বাংলাদেশকে মুছে ফেলার পক্ষে যথেষ্ঠ। কোনও কোনও মহল থেকে এখন এটা বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশের এই বেনজির সিদ্ধান্ত নিতে ইন্ধন জুগিয়েছে পাকিস্তান এবং সে দেশের গণমাধ্যমের একাংশ।
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বইয়ে হওয়ার কথা ছিল। সে হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আইসিসির কাছে অ্যাক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন। শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ কভার করার জন্য নয়, পুরো বিশ্বকাপ কভার করার জন্য তারা আবেদন জানান।
বিসিবির এই সিদ্ধান্তে দুইভাগে বিভক্ত ক্রিকেটপাড়া থেকে সাধারণ মহল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠই বোর্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যে প্রশ্নটা সব থেকে বেশি কৌতুহল তৈরি করেছে সেটা হল বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কর্মীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কভার করার ইচ্ছা। ভারত যদি তাদের দেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে অনিরাপদ জায়গা হয়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কাছে সেটা কী করে নিরাপদ হল? প্রেসকর্নার তো আর মাঠের বাইরে নয়। প্রেস ফটোগ্রাফারদের তো মাঠে ঢুকে ছবি তুলতে হবে? তাদের কি ইচ্ছাকৃতভাবেই ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে না বাংলাদেশ? আর যে যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকার করে অর্থাৎ নিরাপত্তা, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হলে তারা নিরাপদে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা কোথা থেকেই বা পেলেন? বাংলাদেশের ক্রিকেট মহল এবং বিসিবিকে জানিয়ে দরকার যে শ্রীলঙ্কা সফরের সময় রাজীব গান্ধির ওপর হামলা হয়েছিল। তিনি যখন গার্ড অব অনার নিচ্ছিলেন সেই সময় সে দেশের এক নৌসেনা বন্দুকের বাট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে।












Discussion about this post