দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বারবার পঞ্চম বাহিনীর কথা সামনে এসেছে। কমিউনিস্টদের মধ্যে পুঁজিবাদী শক্তিদের চর ঢুকে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোকে নিকেশ করেছে। এখন বাংলাদেশের রাজনীতির যে পরিস্থিতি, তাতে ফের এই পঞ্চম বাহিনীর কথা উঠে আসছে। বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চম বাহিনী ঢুকে কাজ করেছে এবং কাজ করছে। সেই পঞ্চম বাহিনী হতে পারে কোনও শত্রু দেশের এজেন্ট। এর জেরে দেশের রাজনৈতিক প্রবাহকে তারা অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। বলা ভাল, ভুল পথে ধাবিত করেছে। কিন্তু সেটা ছিল নিয়ন্ত্রিত। গত এক বছরে পঞ্চম বাহিনী বাংলাদেশের সমস্ত বাহিনী, রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠীর মধ্যে ঢুকে নিজেদের এজেন্ডা সফল করতে পেরেছে বলে মত কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এর জেরেই বাংলাদেশের রাজনীতি, শৃঙ্খলা বাহিনী, আইন বিভাগ..সব কিছু প্রভাবিত হচ্ছে। এখন তাদের শেষ এজেন্ডা সেনানিবাসের মধ্যে ঢুকে অস্থিতিশীল করা। এবং গোটা বাহিনীকে ধ্বংস করা। তারা কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে। আর সেটার প্রমাণ মিলছে ঠারেভারে।
হঠাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে পঞ্চ তাণ্ডবের আর্বিভাবের কথা কেন বলা হচ্ছে? কে এই পঞ্চ পাণ্ডব? এই প্রশ্নটাই স্বাভাবিকভাবে উঠবে। আসলে বাংলাদেশ সেনাবিনীর মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাতে দেশী, বিদেশী একটি দুষ্ট চক্র যে কাজ করছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা কোনও একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করে। ফলে এদের চক্রান্তের জেরে একটি গোটা বাহিনী, একটি গোটা রাজনৈতিক দল, এমনকি একটি গোটা রাষ্ট্র শেষ হয়ে যেতে পারে। এমনই একটি চক্রই বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবৎ অবস্থান করে এসেছে। তাই ইতিহাস ঘেঁটে যে ঘটনা প্রবাহ কখনও দেখা যায়নি, এখন সেগুলি হচ্ছে। যেমন সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জেরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি। যেটা নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যেই সেই কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে। সেনানিবাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী জেল তৈরি করে সেই অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের হেফাজতে নিয়ে বিচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বার্ধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। যেটা ঘিরে বাংলাদেশে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। এর আগের ঘটনা প্রবাহ দেখলে আরও দেখা যাবে। যেমন, সাধারণ মানুষের উপর সেনাবাহিনীর গুলি চালানো। তাদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল কয়েকটি প্রাণ। অথচ এই সেনাবাহিনীর কাজ সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা বর্হিশক্তি থকে। এমনকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে দেশের সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই সবকটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট ছোট ঘটনাগুলি থেকেই অবক্ষয় হওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি দুষ্ট চক্র তাদের এজান্ডা সফলমন্ডিত করেছে। ফলে এখন যে ঘটনা ঘটছে, সেগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হয় তবে দেশের সমস্ত জনগণকে এক হতে হবে। তবেই লড়াই করা সম্ভব। এখন দেখার, পঞ্চম বাহিনী থেকে আদেও মুক্তি পায় কিনা বাংলাদেশ!












Discussion about this post