শেষে কি না আমেরিকার কড়া নজরে ভারত? না কি ধম্মে হাত?
অবাক করার মতো বিষয় হলেও বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছে। এটিকে একদিকে নজরদারি বলা যেতে পারে, আবার ধম্মে হাতও বলা যেতে পারে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখছে। তাদের মতে, আমেরিকা কোনওদিক থেকেই আর ভারতকে চাপে ফেলতে পারছে না। সাউথব্লক কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কোনও জাহাজ ওই অঞ্চল দিয়ে যেতে পারছে না। কিন্তু ভারতের একটি তেলবাহী জাহাজ ওই অঞ্চল দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন – “ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। ভারত শান্তি ও সুস্থিতির পক্ষে। আমরা চাই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।” প্রধানমন্ত্রীর এই এক ফোনে মেজাজ হারিয়ে ফেলে ট্রাম্প প্রশাসন। মেনে নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।
কী কারণে এই গৌড়চন্দ্রিকা, এবার তা নিয়ে আলোচনা। মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন ফর ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম, সংক্ষেপে ইউএসসিআইআরএফ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতে গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং ( র) কে নিষিদ্ধ ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমত কোনও স্বাধীন দেশের একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সুপারিশ ভিন্ন কোনও দেশ করতে পারে কি? এককথায় না। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের কার্যপ্রণালী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু র কী করেছে? ভারতের এই গোয়েন্দা সংস্থার ওপর রাগের কারণে, তারা আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেনের গোয়েন্দা সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ওই সব দেশে অপারেশন চালিয়েছে। সেটা তারা টের পেয়েছে অনেক পড়ে। একটি ঘটনার উল্লেখ করা যাক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিন সফরে গিয়েছিলেন একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার আগে বসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গাড়িতে। ছিলেন প্রায় ৪০ মিনিট। সেই সময় পদ্মাপারে একটি গোপন অভিযান সংঘটিত হয়। সেই অভিযানে একজনের মৃত্যু হয়। পরে দিল্লি থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ভাষণ শুরু করে অদ্ভুত কায়দায়। বলেন, “আপনারা আমায় বেঁচে থাকতে দেখে কি অবাক হচ্ছেন?” এখন পরিষ্কার হচ্ছে পদ্মাপারে কেন হয়েছিল অভিযান। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে খুন করার একাধিকবার ষড়যন্ত্র করে আমেরিকা। আর তাদের প্রতিটি চাল বানচাল করে দেয় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা ভারতের এই সরকারি সংস্থার ওপর খাপ্পাকে। তাই, এই সুপারিশ। কিন্তু ভারত যে আমেরিকার দালালি করবে না, অতীতে সেটা তাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। আরও একবার বুঝিয়ে দিলে।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছে, “We have taken note of the latest report of the US Commission on International Religious Freedom (USCIRF). We categorically reject its motivated and biased characterisation of India. For several years now, USCIRF has persisted in presenting a distorted and selective picture of India, relying on questionable sources and ideological narratives rather than objective facts.”
বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় – “ইউএসসিআইআরএফ-এর সর্বশেষ রিপোর্টটির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এতে ভারতের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, আমরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি। গত কয়েক বছর ধরে ইউএসসিআইআরএফ ভারত সম্পর্কে একটি বিকৃত ও নেতিবাচক চিত্র উপস্থাপন করে আসছে। তাদের রিপোর্টটি নিরপেক্ষ তথ্যের বদলে সন্দেহজনক উৎস ও মতাদর্শগত বয়ানের উপর নির্ভর করে তৈরি। বারবার এ ধরনের ভ্রান্ত উপস্থাপন শেষ পর্যন্ত ইউএসসিআইআরএফ-এর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করবে।” এখানেই থেমে থাকেননি আমাদের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “ভারতের সমালোচনা না করে আমেরিকায় হিন্দু মন্দির ভাঙচুর ও হামলার উদ্বেগজনক ঘটনা এবং আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়গুলোর দিকে ইউএসসিআইআরএফ-এর মনোযোগ দেওয়া উচিত। ওই বিষয়গুলি সত্যিই গুরুতর।”












Discussion about this post