মাত্র ১২ ঘণ্টা। এই ব্যবধানে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে গেল একটি বড় ঘটনা। যা নজিরবিহীন। দেশের সবশেষ বান্দরবন ৩০০ নম্বর আসনে ঘটল বিরল ঘটনা। রবিবার রাতে যে আসনটি জোটের ত্যাগের প্রতীক হিসাবে এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দান করে দেওয়া হয়েছিল, সোমবার দুপুরে জামায়াতকে ফিরিয়ে নিতে হল। আসলে এর পিছনে কারণটা ঠিক কি? অনেকে বলছেন, কেন্দ্রের নেতারা হয়তো বড় মনের পরিচয় দিয়ে আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল স্তরের কর্মীরা এই দানছত্র মেনে নেননি। এডভোকেট আবুল কালামের মতো একজন শক্তিশালী প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়ার খবরে বান্দরবনে জামায়াত-ই ইসলামীর শিবিরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, সেটা নেভাতেই কেন্দ্র বাধ্য হয়েছে বাস্তবতায় ফিরে আসতে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বান্দরবানে তারা ভুল শোধরালেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা, ঢাকা অথবা রংপুরে…এই আসনগুলোতে কেন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত? কেউ কেউ জামায়েত-ই ইসলামীর আসন জোট নিয়ে বলছেন, আসন সমঝোতা আবার কেউ বলছেন আসন বিতরণ। কেউ কেউ আবার বলছেন, বিএনপিকে হারাতে কৌশলী জামায়াত। জোট রাজনীতিতে বড় মোড় আসতে চলেছে। যা এখনও বাকি রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি আসনের দিকে নজর রাখা যাক।
চুয়াডাঙা ২:
১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি জামায়াতের দুর্গ হিসাবে পরিচিত। এখানে জামায়াতের প্রার্থীরা অতীতে একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ এখানে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি। অথচ বিষয়ের নিশ্চয়তা থাকা আসনটি দিয়ে দেওয়া হল এনসিপির মোল্লা এহসান ফারুককে। তথ্য অনুসারে এই এনসিপি নেতা একজন কট্টর জামায়েত শিবির বিদ্বেষী। যিনি কিছুদিন আগেও বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়েত কে তুলোধোনা করে, সেই নেতাকে এই গুরুত্বপুর্ণ আসন ছেড়ে দিল জামায়েত।
ঢাকা ১১ আসনেও প্রত্যেককে চমকে গিয়েছিলেন। এখানে জামায়েত প্রার্থী আতিকুর রহমান শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করেছেন। একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, আসনটি ছেড়ে দেওয়া হল এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে। তৃণমূল স্তরের কর্মীরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, জুলাই বিপ্লবকে পুঁজি করে উঠে আসা নাহিদ ইসলাম কি আদেও জামানত বাঁচাতে পারবেন?
রংপুর ৪:
এই এলাকায় জামায়াতের এটিএম আজম খানের মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হল, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে। আখতার হোসেন একসময় জামায়াতের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন, বর্তমানে তার জনভিত্তিক কতটুকু? এই এলাকায় বিএনপি প্রার্থী করেছে এমদাদুল হককে। সেখানে তার জনভিত্তি রয়েছে প্রবল। আদেও কতটা আখতার হোসেন লড়াই দিতে পারবেন, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, এই আসনগুলো ইচ্ছে করে বিএনপির কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা ৮:
এই আসনটি বলা হয়, জামায়েত ই ইসলামীর সবথেকে বেশি ভোটারদের আসন। সারা দেশ থেকে আসা জামায়েত ইসলামীর নেতা কর্মীদের ভোটার বানিয়ে তিলে তিলে একটি দুর্গ গড়ে তুলেছিল জামায়েত। মীর কাশেম আলী মিন্টু বড় ভূমিকা রেখেছেন এই আসনে। কিন্তু প্রার্থী করা হল নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে। ফেনী ২:
এবি পার্টির নেতা মুজিবর রহমান মুন্ড, যিনি জামায়েত ভাঙার অন্যতম কারিগর। তাকে দেওয়া হল জামায়াতের অন্যতম শক্তিশালী এই আসনটিতে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ….১৪৩ আসনকে নিশ্চিত জয়ের আসন হিসাবে দেখছেন। জামায়াতের ভোট ব্যাংকের উপর ভর করে কুমিল্লা ১১, চট্টগ্রাম ১৫, কক্সবাজার ৩…এই আসনগুলো চেয়েছে। সাতক্ষীরা আসনেও তারা দাবি করেছে। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত আসনগুলি কেন ছেড়ে দিচ্ছে জামায়েত-ই ইসলামী? এটা কি আসন সমঝোতা হচ্ছে, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও রাজনীতি রয়েছে? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামায়েতের অনেক বড় সংগঠন রয়েছে। সেটা ডাকসু, জাকসু নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। আর সেটার ফল নিতে চাইছে এনসিপি। এখন দেখার, নির্বাচন পরিস্থিতি এগিয়ে আসতে আর কি কি নতুন বিষয় উঠে আসে!












Discussion about this post