দীর্ঘ আলোচনার পর বহু প্রতিক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হল। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ স্বাক্ষর করেছেন ২৫টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তবে কাঁটা হিসেবে রয়ে গেল জাতীয় নাগরিক পার্টি। যদিও জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিনভর টান টান নাটকীয় পরিস্থিতি দেখা গেল বাংলাদেশে। প্রবল বিক্ষোভ, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল দফায় দফায়। চলল অবাধ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। বহু প্রতিক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হল। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ স্বাক্ষর করেছেন ২৫টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
তবে কাঁটা হিসেবে রয়ে গেল জাতীয় নাগরিক পার্টি। বহু প্রতিক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হল। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-সহ স্বাক্ষর করেছেন ২৫টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তবে কাঁটা হিসেবে রয়ে গেল জাতীয় নাগরিক পার্টি। পরে পুলিশ তাঁদের জোর করে সরিয়ে দিলে তাঁরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান; ভাঙচুর করেন পুলিশের বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি, আগুন জ্বালিয়ে দেন কয়েকটি গাড়িতে। বিক্ষুব্ধদের ঢিল ছোড়াছুড়ি, পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং সাউন্ড গ্রেনেড ফাটানোর মধ্যে উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ নির্বিচারে লাঠি চালানোয় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণ ঘটেছে। যে জুলাই সনদ ঘিরে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকারী অক্ষ এত লাফাচ্ছিলেন, তাঁরাই আবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন কালিমালিপ্ত করল বলে মনে করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এদিন বলেছেন, আমাদের জন্য আজ নবজন্ম। জুলাই জাতীয় সনদ সইয়ের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম। যে তরুণরা এই দিনটিকে সম্ভব করেছে, বাংলাদেশের পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তারাই আবার বাংলাদেশ গড়বে। জুলাই সনদের আলোকে এর চিন্তাধারার আলোকে তাঁরা নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা বললেন বটে, সেই তরুণদের দলই আজ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেন না। পুরো অনুষ্ঠানে তাঁদের কাউকে দেখা যায়নি। যদিও এনসিপি একা নয়, জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশও জুলাই সনদে সই করতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামাত নেতারা মত বদলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। অপরদিকে এনসিপি নেতারা বলছেন, আইনি ভিত্তি দেওয়া না হলে কেবল একটি ‘ইনফরমাল সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা অনানুষ্ঠানিক সামজিক চুক্তির জন্য এত আয়োজন ও ত্যাগ-তিতীক্ষার প্রয়োজন ছিল না।
সংস্কারের বিষয়ে মাসের পর মাস রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের পর খসড়া চূড়ান্ত করা হয় এবং ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হল। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে বিএনপি রাজি থাকলেও, এর আইনি ভিত্তির প্রশ্নে বিরুদ্ধ অবস্থান নেয় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এনসিপি মূলত তিন দফা দাবিতে অনড়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার পাল্টা দাবি করেন, জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, জুলাই সনদে এনসিপি স্বাক্ষর না করায়, মুহাম্মদ ইউনূসের চাপ বেড়ে গেল। যদিও উপদেষ্টারা অনেকেই এনসিপিকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এদিন জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর এনসিপির বিষয়ে বলেন, আমার আরও ভালো লাগত যদি এনসিপির যারা আমাদের ছাত্রনেতা আছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা থাকত। নজরুল আরও বলেন, তবে ওনারা বলেছেন যে আমাদের ঐকমত্য কমিশন আরও ১৫ দিন ফাংশন করবে, এর মধ্যে ওনারা আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করবেন। আমি একজনের বক্তব্য দেখেছি যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে ওনারা পরেও স্বাক্ষর দিতে পারবেন। প্রায় একই বক্তব্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানেরও। কিন্তু এনসিপি সই না করায় বিতর্ক থামছে না।












Discussion about this post