২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত ১৫ মাসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে সারা দেশে খুনের মামলা হয়েছে ৩,৮৩২টি। এরমধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে খুনের মামলা হয়েছে ১,৯৩৩টি।
প্রধান উপদেষ্টার দফতরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া অপরাধ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১০ মাসে সর্বমোট মামলা হয়েছে ৩,৫৫৪টি। একই সময়ে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২,১৩৬টি। একই সময়ে পুলিশ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ৪৭৯টি। অস্ত্র, বিস্ফোরক, অপহরণ, ধর্ষণ, দাঙ্গা ও অন্যান্য অপরাধসহ সব মিলিয়ে সর্বমোট মামলা হয়েছে এক লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৫৫টি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়েছে। যদিও এটার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের দাবি, এরমধ্যে অধিকাংশ মামলাই নাকি হাসিনা সরকারের আমলের। সে সময় অনেকেই নাকি ভীতসন্ত্রস্ত থাকার কারণে থানাপুলিশের কাছে মামলা দায়ের করতে পারেননি। এখন সেটা নির্ভয়ে করছেন। তাই মামলার হার বেড়েছে বাংলাদেশে।
উল্টোদিকে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। পাশাপাশি কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। ১৬৫ জন সাংবাদিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন ইউনূস সাহেবের আমলে। কিন্তু এই সমস্ত ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। ইউনূসের আমলে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা ৬,৩৯০ জন। এরমধ্যে নিহত সংখ্যা ২৩৩। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮৮ জন নারী। গণপিটুনি বা মব ভায়োলেন্সে মৃত্যু হয়েছে ১০৮ জনের। এই সমস্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হল একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে। সেটা হল বিগত ১৫ মাসে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা ঠিক কি।
জেনারেল ওয়াকার, যিনি গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বিদায়ের পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দাবি করেছিলেন, এখন থেকে বাংলাদেশের জনগণের জানমালের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তিনি বলেছিলেন, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবার থেকে আপনাদের রক্ষা করবে। এবং দ্রুত নির্বাচনের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেনাপ্রধানের সেই দাবির কোনওটাই রাখতে পারননি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। উল্টে তাঁর প্রশ্রয়ে পালিত বাংলাদেশের অদৃশ্য শক্তিগুলি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদেরই আদালতের কাঠগড়ায় তুলতে দাঁতনখ বের করেছে। যা নিয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেই শুরু হয়ে গিয়েছে চরম বিদ্রোহ।
আর তাতেই কার্যত লেজ গুটিয়ে লুকিয়ে পড়েছেন জেনারেল ওয়াকার। সম্প্রতি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল খান-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি করেছে। এর মধ্যে ২৫ জন সেনাকর্তা। যাদের মধ্যে আবার ১৫ জনই বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। যে সেনাপ্রধান, প্রথম থেকেই এই সরকারের যাবতীয় অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করলেন, প্রশ্রয় দিলেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপের মতো পুষলেন। সেই সেনাপ্রধানকেই এখন কালসাপ দংশন করতে উদ্যতো। এখন দেখার তিনি কি পাল্টা প্রত্যাঘাত করতে চলেছেন?












Discussion about this post