রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠকের পরও বেরিয়ে এল না কোনও রফসূত্র। এদিকে চাকরিহারারা অনড় রয়েছেন তাদের দাবিতে। তাদের দাবি, রাতের মধ্যেই যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কেন তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হল না? প্রশ্ন তোলেন তারা। যেমন এই তালিকা প্রকাশে নির্দেশ দেওয়া হয়নি তেমন প্রকাশ করতেও তো বাধা দেওয়া হয়নি। তারপরও কেন এই পরিস্থিতি? যদি তাদের দাবি মানা না হয়, তবে বৃহত্তরও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরি হারারা। অর্থাৎ চাকরি হারাদের এবার হুঙ্কার রাজ্য সরকারকে তথা মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষা দফতরকে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন চাকরিহারাদের একাংশ। সেই কারণেই নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তারা। তারা জানিয়েছিলেন, রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হোক যোগ্যদের তালিকা। আর বাকিদের ফের পরীক্ষা নেওয়া হোক। এই দাবি জানাতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু তাদের নবান্ন অভিযানে বাধা দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে 20 জন চাকরিহারা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য সচিব মনোজ পান্থ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহ অন্যান্য আধিকারিকরাও। বৈঠক শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই মুখ্য সচিব বেরিয়ে যান। তারপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন চাকরিহারারা। তারা জানান, তাদের সমস্ত দাবি শুনেছেন মুখ্য সচিব। নিজে নোটও করে নিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা তো শুধু চেয়েছি যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা। শিক্ষামন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন তালিকা তৈরি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তো কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তাহলে তারপরও কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না সেই তালিকা? প্রশ্ন তোলেন চাকরিহারারা। তারপরই তারা জানান, সোমবার রাতের মধ্যে যোগ্য অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। যদি সেটা না করা হয়, তবে আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নির্দেশে প্রায় 26000 শিক্ষক শিক্ষা কর্মী এবং অশিক্ষক কর্মী চাকরি চলে যায়। নতুন করে পরীক্ষা হওয়ার কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কমিশনের তরফে মে মাসের শেষে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এদিকে যারা নিজেদের যোগ্য বলে দাবি করছেন, সমস্ত চাকরিহারারা নতুন করে পরীক্ষায় বসতে রাজি হচ্ছেন না। সেই কারণেই বারবার তারা দরবার করছেন কখনো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবার কখনো শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। এখন দেখার তাদের এই হুশিয়ারির পর নড়েচড়ে বসে কিনা রাজ্য সরকার!












Discussion about this post