মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের উপর নতুন করে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শুর হয়ে গিয়েছে নতুন করে বিতর্ক। কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমান? এই বিতর্ক আরও বেড়েছে ষখন, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেছেন, ১০ এবং ১১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেটা ইতিবাচক। আগামী সপ্তাহে বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধি দল আবারও যুক্তরাষ্ট্র যাবেন শুল্ক আরোপের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। প্রশ্ন উঠছে, যখন আলোচনা সফলই হল, তাহলে কেন অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবার কেনই বা দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে। কিন্তু যে বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেটা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে যে চুক্তি হবে, তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা কেন এই ধরণের উক্তি করলেন, সেটা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রসঙ্গত, ১ অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বার্তা দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। যদিও এই চিঠি নিয়ে বাংলাদেশের তরফে খুব একটা উচ্চবাচ্য করা হয়নি এখনও। তবে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৃহৎ রফতানি পণ্য রেডিমেড পোশাক শিল্পে এর প্রভাব কতটা পড়বে তা নিয়েই চলছে মূল বিশ্লেষণ। প্রসঙ্গত, আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে।এখন নতুন করে আরও ৩৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হতে যাচ্ছে এর সঙ্গে। অর্থাৎ, মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও ভিয়েতনামকে অর্ধেকের কম শুল্ক দিতে হবে। যা বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের জন্য আতঙ্কের কারণ।
শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এখনও ওয়াশিংটনে রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আরেক দফা আলোচনা হবে। যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসু হবে তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেই প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে আলোচকদের ‘যোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি এসে যাওয়ার পর বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক মার্কিন মূলুকেই কেউ নেই বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করছেন, যে হেতু এখনও মিয়ানমারে রাখাইন করিডোর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে, সে হেতু ডঃ খলিলুর রহমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন মূলককে খুব একটা চাপ দিতে অপারগ। কারণ, এখনও তলে তলে রাখাইন মানবিক করিডোরের কাজ চলছে বাংলাদেশে। সেই কারণেই বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে যে চুক্তি হবে, তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। অর্থাৎ, ভিতরে ভিতরে অন্য কিছু পাকছে। আর সেটা হল বাংলাদেশে একটি মার্কিন সামরিক বেস বা ঘাঁটি। সে করণেই বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের থেকে শুরু করে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post