৬ ডিসেম্বর। তারিখটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ। ১৯৯২ সালের এই দিনে ভাঙা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। ২০২৫ –য়ের ৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে মুনির পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড দেখভালের দায়িত্ব পেলেন। এই কমান্ডের হাতে রয়েছে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনার দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে। চড়া দাগে মুনিরের হাতে তুলে দেওয়া হল সে দেশের পারমাণিবক অস্ত্র ভাণ্ডারের চাবি। এটা অনেকটা পাগলের হাতে লোহার টুকরো তুলে দেওয়ার মতো। ককপিটে মানুষের জায়গায় হনুমান বসিয়ে দেওয়া বলা যেতে পারে। মুনিরের হাতে যেদিন পাক পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের চাবি তুলে দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে ছয়লাব হয়ে গেল, সেদিন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটা আতঙ্ক তৈরি হয়।
পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন যে খবর তৈরি হয়েছে, তা শুধু ভারতের জন্য উদ্বেগের নয়, আমেরিকার জন্য সমান উদ্বেগের। সেটা মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান (ইউনাইটে স্টেটস ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজ্যান্স) তুলসি গ্যাবার্ডের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিনেটে বক্তব্য পেশ করছিলেন তলীস গ্যাবার্ড। ওই ভাষণে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ এই নেত্রীকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায় পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আমেরিকার জন্য বড়ো বিপদের কারণ। তাঁর মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার কোনওভাবে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছে গেলে সেটা শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, আমেরিকার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তুলসি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার উচিত তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে আমেরিকা পাকিস্তানের ওপর যে পরিমাণ বিশ্বাস বা বিনিয়োগ করেছে, তার সঠিক প্রতিদান মেলেনি। বরং পাকিস্তান দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে বারবার আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হেনেছে। গ্যাবার্ডের মতে, এখন সময় এসেছে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিচার করার এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
গ্যাবার্ডের এই বক্তব্যের পিছনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি কাজ করছে। প্রথম পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। সে দেশে সরকার আর সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের লড়াই নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয়ত পাকিস্তানে একাধিক জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়। তুলসির এই মন্তব্য ভারতের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে। ভারত বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিকমঞ্চে বলে এসেছে যে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদে তাদের মদত নিয়ে সরব হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে প্রধান অন্তরায় তা আবারও প্রমাণিত হল।
ঠিক কী করছে পাকিস্তান? পাকিস্তানের কৌশলটাই বা কী? বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে পাকিস্তানের নজর ছিল ভারতের দিকে। বাংলাদেশে পালাবদলের পর পাকিস্তান তাদের নজরে রেখেছে আমেরিকাকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সৌদির হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে পাকিস্তান। সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে তুলসী জানিয়েছেন, পাকিস্তান অত্যাধুনিক ব্যালাস্টিক মিসাইল তৈরি করেছে। যা পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। আর আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব ১০ হাজার কিলোমিটার। ইসলামাদ এখন সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও আধুনিক করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে আমেরিকা কয়েকটি দেশকে নিয়ে একটা তালিকা তৈরি করেছিল। সেই তালিকা হল কোন কোন দেশকে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। সেই সব দেশের মধ্যে ছিল পকিস্তান। বাকি দেশগুলি হল চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া। পাকিস্তানকে নিয়ে তুলসী গ্যাবার্ডের উদ্বেগের আরও বড়ো কারণ, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের কোনও সুষ্পষ্ট নীতি বা নির্দেশিকা নেই।
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ভারতের “ অপারেশন সিঁদুরের ” পর চিনের সাহায্যে পাকিস্তান নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার আরও সমৃদ্ধ করতে চাইছে।












Discussion about this post