তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস গত কয়েক মাস ধরে এই বলে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে বলেছেন, যে ত্রয়োদশ নির্বাচন হবে অবাধ, নিরপেক্ষ। ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। বিগত দিনে তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে অনেকে দেখা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক প্রতিনিধিদলকে ভোটের সময়ে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছে। ভোটের ব্যাপারে সরকার থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটা তারা জানার চেষ্টা করে। ইভারসের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন গণভোট বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। তাঁর এবং প্রতিনিধিদলের আশা, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কমিশন সব কিছু ঠিকঠাকভাবে সামাল দিতে পারবে।
বসে নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের তরফেও নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। এই প্রথম বাংলাদেশ সেনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ভোট নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা তাদের একটি ভিডিও এখন ভাইরাল। ভিডিওর শিরোনাম ‘আপনার দেশ, আপনার অপেক্ষায়। আস্থা ও বিশ্বাসে সেনাবাহিনী। ’ ভিডিও থেকে দেশবাসীর জন্য তাদের বার্তা – বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের মতাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে দায়িত্ব সেনাবাহিনী স্বেচ্ছায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছে। পরিবেশ যাতে ভোটের অনুকূলে থাকে, তার জন্য তাদের তরফে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দরকার একটা ভালো নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
এটা তো বাহিনীর প্রতিশ্রুতি। ‘ইউনিট’ ওয়াকারের মনের ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষ তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পরবর্তী সরকার নির্বাচিত করুক। কিন্তু সরকারের মাথায় যিনি বসে রয়েছেন, অর্থাৎ ইউনূস, তিনি কি আর চাইবেন সেনাবাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক? তিনি চাইবেন ঠিক এর উল্টোটা। তার বড়ো প্রমাণ ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে বাহিনীর শীর্ষপদে রদবদল। সেনাকর্তা মিজানুর রহমান এবং শাহিনুল হককে অবসরকালীন ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে যে সব কাগজপত্র তৈরি করার কথা, সেই সব কাগজে সইও হয়ে গিয়েছে। এখন বাকি সরকারভাবে এই দুই সেনাকর্তার হাতে অবসরকালীন ছুটির বিজ্ঞপ্তি ধরিয়ে দেওয়া। তদারকি সরকারের নজরে রয়েছে আরও একজন সেনাকর্তা। তিনি মাইনুর রহমান। গত মাসের পর মাস ধরে তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে গিয়েছেন। একটি সূত্র বলছে, ভোটের দিন সরকারের তরফে তাকে ভীষণভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হবে। সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই। ভোট মানুষ নিয়ন্ত্রণ করবে না। করবে সেনা। আরও স্পষ্ট ভাষায় সেনার ইউনূসপন্থী অংশ।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের অনুসারে, এই দুইকে ছাড়াও আরও কয়েকজনকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হোসেন, যিনি আর্মড ফোর্সেজ ডিভিশনের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার ছিলেন তাঁকে করা হচ্ছে চিফ অব জেনারেল স্টাফ। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হবেন কাতার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফইজুর রহমান। আর ফইজুর রহমানের জায়গায় আসবেন মাইনুর রহমান। এই যে অদলবদল তার একটাই উদ্দেশ্য নির্বাচনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন তদারকি সরকার প্রধান। কারণ, ভোটের দিন বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে বড়ো বিপদ। তাই, জেনেশুনে তদারকি সরকার প্রধান কেন নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন।
যদিও কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল বলছে, এত কিছু করেও শেষ রক্ষা হবে না ইউনূসের। তাঁর বিদায় প্রায় পাকা। তারেক রহমানকে ক্ষমতায় ফেরাতে এক যোগে কাজ করবে ভারত এবং আমেরিকা। এই দুটি দেশে চাইবে বাংলাদেশে অবসান হোক নৈরাজ্যের। দুঃশাসনের বদলে ফিরে আসুক সুশাসন। এটা শুধু এই দুটি দেশের ইচ্ছে নয়। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে প্রাণে চাইছে এই নৈরাজ্য আর অরাজকতার অবসান।












Discussion about this post