দেশটার নাম আমেরিকা। নিজেদের স্বার্থের জন্য এবং স্বার্থে আঘাত লাগলে এমন কোনও পদক্ষেপ নেই যেটা তারা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। দেশটার চরিত্রই এইটা। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে যে আমেরিকার হাত ছিল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম দিকের সাক্ষাৎগুলিতে এই নিয়ে খুব একটা তাঁকে সরব হতে দেখা যায়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি যে সব সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, সেখানে খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, যে আমেরিকাই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। হাসিনা বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন আমেরিকার তরফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তুলে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ তৈরি করা হয়। কিন্তু মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে অস্বীকার করায় আমেরিকা তখন অন্য কৌশল নেওয়ার কথা চিন্তা করতে শুরু করে। বাংলাদেশে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনকে বলা হয়েছিল জনতার স্বতর্স্ফূর্ত আন্দোলন। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, এই আন্দোলনের পিছনেও হাত ছিল আমেরিকার। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এখন সব দিক থেকেই শক্তিশালী দেশ ভারত। পাকিস্তানের হাল খুব খারাপ। সেখান থেকে আমেরিকার পাওয়ার কিছু নেই। আর নতুন করে সেখানে অস্থিরতা তৈরি করেও আমেরিকার কোনও লাভ হবে না। ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা যে তারা করেনি, তা নয়। কিন্তু চেষ্টা করেও তারা চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। নেপালকে সাময়িকভাবে অস্থির করে তোলা হলেও নেপাল সামলে নিয়েছে। হারাধানের ১০টি ছেলের মধ্যে রইল বাকি বাংলাদেশ। তাই, বাংলাদেশে একবার অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই হল। ভারত কিছুটা হলেও উদ্বেগের মধ্যে থাকবে।
ভারত যে উদ্বেগে ছিল না, তা নয়। বাংলাদেশ থেকে হাসিনা সরে যাওযার পর থেকে সাউথব্লকে একটি অস্থিরতা তৈরি হয়। কারণ, ক্ষমতার ব্যাটন যাঁর হাতে গিয়েছে সে মানুষটি কেমন, তা সাউথব্লকের নতুন করে জানার কোনও প্রয়োজন হয়নি। তাই, পদ্মাপারে অবৈধ সরকারের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে কড়া নজড় ছিল দিল্লির। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে পাক-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতা। দিল্লির চিন্তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বাংলাদেশকে এখন কৌশলগতভাবে চাপে রেখেছে ভারত। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমেরিকা।
বলা হচ্ছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার বিরাট একটা ভূমিকা রয়েছে। মা মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তারেক জানিয়ে ছিলেন তিনি দেশে ফিরতে চান। কিন্তু দেশে ফেরার বিষয়টি একা তাঁর ওপর নির্ভর করে না বলেও জিয়া-পুত্র জানিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনী। বাহিনীর থেকে সবুজ সংকেত না পেয়ে দেশে ফিরলে তাঁকে যে জেলের ঘানি টানতে হবে, তারেক সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল। তাই, বাহিনীর তরফে সুবজ সংকেত পাওয়ার পাশাপাশি আমেরিকা ও ভারত থেকেও তাঁর দরকার ছিল সবুজ সংকেত। আন্তর্জাতিকমহলের মতে, তারেককে শর্তসাপেক্ষে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। সেই শর্তের মধ্যে রয়েছে নিরাপদে হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন। ভোটে জয়ী হওয়ার পর জিয়া-পুত্রের প্রথম কাজ হবে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশে ফেরার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তারেক সে দেশের থাকার মেয়াদ।
এই তারেক কিন্তু একসময় আমেরিকার বিষ নজরে ছিল। সালটা ২০০৮। বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস থেকে সে দেশের পররাষ্ট্র দফতরকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির বয়ানের মূল কথা – আমেরিকার কাছে তারেক একটি বিপজ্জনক নাম। তারেক-জিয়া একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, কর ফাঁকি সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তারেক সম্পর্কে বলা হয়, ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয় এবং রাজনৈতিক পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে যত্রতত্র ঘুষ চাওয়ার জন্য তারেক কুখ্যাত। দুর্নীতিপ্রবণ সরকার এবং বাংলাদেশের সহিংস রাজনীতির এক দৃষ্টান্ত তারেক।’ সেই তারেক এখন আমেরিকা ও ভারতের দাবার বোড়ে।
ক্ষেত্র প্রস্তুত। এবার ভোটের মুখে সম্মুখ সমরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তদারকি সরকার। আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন...
Read more












Discussion about this post