মাঝ আকাশেই আমেরিকার অহমিকায় জোরধাক্কা ইরানের।
তেহরান ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান F-35-কে মাঝ আকাশেই উড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সেই ঘটনার একটি ভিডি ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘নিউজ বর্তমান’ সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যুদ্ধবিমানটিকে তেহরান প্রথমে চারিদিক থেকে ব্লক করে দেয়। চোখের পলক পড়তে না পড়তে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য কের উড়ে আসে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ব্যস খেল খতম। তেহরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলার চেষ্টা চালায় মার্কিন যুদ্ধবিমান F- 35। যুদ্ধবিমানটিকে তারা মাঝ আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রেভোলিউশনারি কোস্ট গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই দাবি করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। আইআরজিসি-র সরকারি ওয়েবসাইটে থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার। ঘড়িতে তখন প্রায় রাত তিনটে (০২.৫০ ঘ.)। সেই সময় মধ্য ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-35 জেটকে তাদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আঘাত করা হয়। তেহরানের দাবি, তাদের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
কেন এই যুদ্ধবিমান আমেরিকার অহংকার, সে বিষয়ে কিছু কথা। F-35 হল পঞ্চম প্রজন্মের এক আসনের, এক ইঞ্জিনের স্টেলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এই ফাইটার জেট সহজেই আকাশে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে একমেবঅদ্বিতীয়ম। ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে করতে পারে। এটির তিনটি প্রধান ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। ১) সাধারণ টেক অফ ল্যান্ডিং। ২) স্বল্প দুরত্বে টেকঅফ এবং উলম্ব ল্যান্ডিং। এই জেটের স্টেলথ ক্ষমতা, সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তি এবং বাস্তবসময়ে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা এটিকে আগের প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের থেকে পৃথক করে।
বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ অস্ত্র: এমবিডিএ মিটিয়রের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাইলট খালি চোখে লক্ষ্যবস্তু দেখা যাওয়ার আগেই আক্রমণ করতে পারে। রাডার, ইনফ্রারেড সিস্টেম ও বাইরের উৎসের তথ্য একত্র করে জেটটি একক ছবি তৈরি করে পাইলটকে দেখায়। হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে সিস্টেম: পাইলট বিমানটির ভেতর দিয়ে যেন বাইরে দেখতে পান; শুধু তাকিয়েই টার্গেট লক করা যায়। ডাটা কানেক্টিভিটি: এফ-৩৫ আকাশে একটি নোডের মতো কাজ করে—স্থল, আকাশ এবং নৌবাহিনীর ইউনিটের সঙ্গে বাস্তবসময়ে তথ্য আদান-প্রদান করে।
এই বিমান আমেরিকা এর আগেও ব্যবহার করেছিল। কিন্তু কোনও যুদ্ধেই বিমানটিকে কেউ পরাস্ত করতে পারেনি। সেখানে এবার ইরান একটি নয়, দুটি F-35 যুদ্ধবিমানকে গুঁডিয়ে দিয়েছে। (US F-35 Shot Down)। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও পুরোপুরি ইরানের দাবি মেনে নেয়নি। আর সেটাই স্বাভাবিক। স্বীকার করলে তো লজ্জার শেষ থাকবে না। সেন্ট্রাল কম্যান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাদের একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে জরুরী ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়েছে। যদিও তাঁর দাবি, বিমানটি নিরাপদেই অবতরণ করেছে। বিমানটি জরুরী অবতরণের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। একই দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-য়ের। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন F-35বিমানটিতে ইরান হামলা চালালেও সেটি মার্কিন সেনাঘাটিতে নিরাপদেই অবতরণ করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকা ও ইজরায়েল F-25 এবং F-15 এর মতো যুদ্ধবিমানকে কাজে লাগাচ্ছে। এ ছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে, মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার জন্য রিফুয়েলিং KC 135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সামরিক সংঘাতে ইতিমধ্যেই আমেরিকার বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুল করে তিনটি মার্কিন F-15 বিমানকে গুলি করে নামায়।












Discussion about this post