মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার বিশ্বাস ছিল, এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তারা কম সময়ের মধ্যে ইরানকে কবজা করবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক উল্টোটা। আমেরিকা বা সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমান করতে পারেননি যে, ইরানেরও পাশে কেউ দাঁড়াতে পারে। আজ তেহরানের পাশে একটি দেশ নয়, একাধিক দেশ দাড়িয়েছে। ইরান পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে। পেয়েছেন চিনকে। এই পাওয়াটা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে নেওয়ার মতো। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারেনি। সর্বশেষ বিষয়টি হল ওয়াশিংটনের শুল্ক নীতি। তাছাড়া কোন ইস্যুতে আমেরিকা ইরানের ওপর হামলে পড়ল, তার কোনও সুস্পষ্ট ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি? যেমনটা পাওয়া যায়নি সস্ত্রীক মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায়।
রাশিয়া ও চিন ইরানকে সামরিক দিক থেকে সাহায্য করার পাশাপাশি সামরিক পরিকাঠামোগত দিক থেকেও সাহায্য করেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান যে সব হামলা এখনও পর্যন্ত চালিয়েছে, সেই সব হামলা হয়েছে একেবারে নিখুঁত। প্রশ্ন এখানেই। কী করে এতটা নির্ভুল হামলা চালাতে পারছে তেহরান? এর পিছনে রয়েছে রুশ সাহায্য। তারা উপগ্রহের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর তেহরান ওই সব ছবি দেখে তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার কোন কোন অঞ্চলে হামলা চালালে দেশটিকে সামরিক দিক থেকে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে দূর্বল করা যাবে, তার নিখুঁত ম্যাপিং তেহরানের হাতে তুলে দিয়েছে মস্কো। এককথায় রিয়েল টাইম ডেটা তেহরানের হাতে তুলে দিয়েছে মস্কো।
কী এই রিয়েল টাইম ডেটা? এটা এক ধরনের তথ্য। আমেরিকার কোথায় কোথায় সেনা মোতায়েন করেছে, সে দেশের সেনাবাহিনীর গতিবিধি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কোথায় রয়েছে, কোন অঞ্চলে আঘাত করলে আমেরিকার বড়ো ক্ষতির মুখে পড়বে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তেহরানের হাতে তুলে দিয়েছে মস্কো। এই সব ডেটা মস্কো সংগ্রহ করেছে স্যাটেলাইটের সাহায্যে। রাশিয়া কেন এটা করেছে, সেটাও একবার বলে নেওয়া দরকার। প্রথমত আমেরিকা কোনও পাকাপোক্ত কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালায়। যার প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। তাছাড়া রাশিয়া যাতে কোনও দেশকে তেল বিক্রি করতে না পারে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া ঝুলিয়ে রেখেছে। রাশিয়ার থেকে ভারত তেল কেনায় ট্রাম্প প্রশাসন রীতিমতো অসন্তুষ্ট। যদিও ট্রাম্পের এই গোঁসাকে সাউথব্লক একেবারেই পাত্তা দিচ্ছে না। রাশিয়া অন্য আর কী কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে!
ইরাক যুদ্ধে দেখা গিয়েছিল, আমেরিকা মাঝে-মধ্যেই তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করেছিল। যে রাস্তা দিয়ে সেনা বিমান বা সামরিক অস্ত্র যাওয়ার কথা ছিল, শেষ মুহূর্তে তারা সেই রাস্তা বদল করে নেয়। ফলে, ইরাক পড়ে গিয়েছিল মহাফাঁপড়ে। রাশিয়া আমেরিকার এই কৌশল কিন্তু ভোলেনি। রাশিয়া ইরানের হাতে রিয়েল টাইম ডেটা তুলে দেওয়ায় আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরামের হামলা চালানোর কাজ আরও সহজ হয়ে গিয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে সাহায্য করার পাশাপাশি সামরিক অস্ত্র দিয়েও ইরানকে সাহায্য করছে চিন ও রাশিয়া।
মার্কিন ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরানকে উপগ্রহ চিত্র সরবরাহের পাশাপাশি তাদের ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিকীরণে সাহায্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে., মস্কো তার মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক শক্তির মোকাবিলা সক্ষম রাখতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত করার কৌশল হিসেবে এই সাহায্য করছে। একটি সূত্রে বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরানের শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ তৈরিতে বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। লক্ষ্য, ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।












Discussion about this post