আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। ভারতে খেলতে আসতে না চাওয়ায় তাঁদের টুর্নামেন্ট থেকেই বের করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এমনকি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, সে দেশের অন্তত ১৫০ জন সাংবাদিককে বিশ্বকাপের ম্যাচে থাকার অনুমতি দেয়নি আইসিসি। অর্থাৎ, তাঁদের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এবার নাকি পাক ক্রিকেট বোর্ডও টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে নাও আসতে পারে। যদিও গ্রুপ পর্যায়ে পাকিস্তানের যাবতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় রেখেছে আইসিসি। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করবে কিনা জানানো হবে। আসলে তিনি বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট করতে নেমে পড়েছেন। এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেই এবার আসরে অবতীর্ণ হলেন পাক কিংবদন্তী ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রম। তিনি কোনও ভাবেই পাকিস্তানের এহেন পদক্ষেপ মেনে নিতে পারছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন।
পাকিস্তানও কি বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে আক্রম বলেছেন, “বাংলাদেশ খেলতে চায় না বলে পাকিস্তান কেন টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাববে? বাংলাদেশের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটে কি কখনও কোনও লাভ হয়েছে? পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ কী করেছে? আমি এমন ধরণের আবদারে কোনও যুক্তি দেখি না। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের উচিত নিজেদের খেলার দিকেই মনোযোগ দেওয়া এবং বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করা। প্রাক্তন পাক অধিনায়ক যদিও পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি এবং ভবিষ্যত নিয়েই সাওয়াল করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজমাধ্যম এবং একাধিক সংবাদমাধ্যম এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে ব্যস্ত। এমনিতেই বাংলাদেশে বলা হচ্ছে, আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের। তিনি আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র। ফলে আইসিসি নাকি ভারতের কথায় চলছে। ভারতকেই সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে সব ক্ষেত্রে। এই আবহেই প্রাক্তন পাক অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রাম এবার ব্যাট ধরলেন আইসিসি এবং ভারতের হয়েই। তিনি বলতে চেয়েছেন এর মধ্যে অহেতুক কোনও বিতর্ক থাকা উচিৎ নয়। বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তান কেন বিশ্বকাপ বয়কট করবে!
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার ওয়াসিম আকরামকে ভারতের দালাল বলা হবে? টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতে না আসার দাবিতে প্রথম থেকেই অনড় ছিল বাংলাদেশ। সে দেশের ক্রিকেট বিসিবি প্রথমে নিমরাজি হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের চাপেই শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে আসবে না বলে জানিয়ে দেয় তাঁরা। পরে আইসিসিকে প্রস্তাবও দেয়, পাকিস্তানের মতো তাঁদের ম্যাচও শ্রীলঙ্কায় দেওয়া হোক। কিন্তু ক্রীড়াসূচি থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থাপনা হয়ে যাওয়ার কারণে আইসিসি বাংলাদেশের আপত্তি শোনেনি। তবুও নিয়ম মেনে বাংলাদেশের প্রসঙ্গে আইসিসির সদস্যদেশগুলির মধ্যে একটা ভোটাভুটি করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। তাতে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়, বাকি ১৪টি দেশ বিপক্ষে। এরপরই আইসিসি জানিয়ে দেয় আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড খেলবে। এখানেই থামেনি আইসিসি। বিশ্বকাপের ম্যাচ কভার করার জন্য ১৩০ থেকে ১৫০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক অনুমতি চেয়েছিলেন। আইসিসি তাঁদের অনুমতি দেয়নি বলেই জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, যাদের আগে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। যা নিয়ে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে। এই আবহে প্রাক্তন পাক অধিনায়ক এবং কিংবদন্তী অলরাউন্ডার ওয়াসিম আক্রাম সেই ভারতের পক্ষে কথা বললেন। সেই সঙ্গে এক হাত নিলেন বাংলাদেশকে। ফলে এবার হয়তো পাকিস্তানের কিংবদন্তী ওয়াসিম আক্রামকেও ভারতের দালাল বলে দেগে দেওয়া হবে।












Discussion about this post