ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পরে তদারকি সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এই সংবেদনশীল সময়ে অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ, উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সোমবার ক্যান্টনমেন্ট গিয়েছিলে তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর বরিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মত বিনিময় করেন। তিনি বলেন,“ জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাহিনীকে অতীতের মতো এবারেও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। সরকার এই ব্যাপারে আশাবাদী। ”
প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, তদারকি সরকার প্রধান ক্যান্টনমেন্টের বৈঠকে বাহিনীকে জানিয়েছেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক উত্তোরনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে আকাঙ্খা প্রকাশ করেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটদান হবে তাঁর চূড়ান্ত বহিপ্রকাশ।
প্রেস সচিব জানান, তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস বাহিনীকে বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে মানুষ যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করবেন, তেমন সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই, এবারের নির্বাচন বাকি নির্বাচনের থেকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন হল ভোটের আগে হঠাৎ ক্যান্টমেন্টে হাজিরা দিলেন তদারকি সরকার প্রধান? ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট যাতে না হয়, তার জন্য? না কি বাহিনী যাতে ভোটের দিন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, সেই নির্দেশ দিতেই তিনি উত্তরপা়ডা় গিয়েছিলেন ? দুটোর একটা সঠিক নয়। আসলে ভোটের দিন গণভোট নিয়ে বাহিনীর তীব্র আপত্তি রয়েছে। বাহিনী বুঝে গিয়েছে ইউনূসের মতলবটা কি। ইউনূস চাইছে, ভোটের দিন গণভোট করিয়ে সংবিধান বাতিল করে ইউনূস সরকার আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে। তিনি চাইছে, ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিতে। তখন হয়তো বিপ্লবের একটা জাতীয় সরকারও গঠন হতে পারে।
ভোটের আগে সেনাবাহিনীর মন বোঝার জন্যই যে উত্তরপাড়ায় তদারকি সরকার প্রধানের যাওয়া তা নিয়ে কোনও প্রান্তেই কোনও সন্দেহ নেই। সূত্রের খবর, ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য সেনাবাহিনী কী পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা জানার খুব প্রয়োজন ছিল তদারকি সরকার প্রধানের। বাহিনী যে এখন আর তাঁর পাশে নেই, সেটা ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। ফলে, ভোটের দিন জেনারেল ওয়াকারের ইউনিট যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তাহলে ওই দিন শেষ হবে মুহাম্মদ ইউনূস অধ্যায়। সেনাবাহিনীর ভিতরে একটা বড়ো অংশের মধ্যে কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা রয়েছে। জেনারেল ওয়াকার কিন্তু চাইছেন বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন হোক। তারা সেই সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ব্যারাকে ফিরে যাবে। এখন সব পক্ষের নজরে ১২ ফেব্রুয়ারি।











Discussion about this post