আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সকল দল নিতে শুরু করেছে। এরই মাঝে নিষিদ্ধ দল আওয়ামীলীগ তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে জোর কদমে। দেশের নানান জায়গায় তারা তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আওয়ামীলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস। কমনওয়েল্থের মহাসচিব বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয়। বাংলাদেশের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে শেখ হাসিনাকে ফেরাবেন না। আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে ভারত থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি আরও বিলম্বিত হবে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে কমনওয়েল্থ ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কপালে দুঃখ রয়েছে।
ভারত থেকেও ইউনূসের কাছে একাধিকবার বার্তা যায় যে, দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ করে দিতে হবে। ফলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পছন্দ মতো প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা তারাই ঠিক করবেন। মানুষের রায় যেন ইউনুস মেনে নেন। কিন্তু ইউনূসের মস্তিষ্কে তো রয়েছে অন্য পরিকল্পনা। বিএনপির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন যতই সামনের দিকে এগোচ্ছে ততই ইউনুস জামাতের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছে।
হাসিনার সরকার পতনের পর ডক্টর মহম্মদ ইউনুস তার এই ১৫ মাসের রাজত্বকালে বাংলাদেশের কোনও উন্নতিসাধন করতে পারেননি। উল্টে বাংলাদেশকে নিম্ন হারে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। এশিয়ার সকল দেশের চোখে বাংলাদেশকে তলানিতে ঠেকিয়েছে ইউনুস। তার ব্যার্থতার কারণে বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে। দেশে বেকারের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। অর্থনীতি তলানিতে। ক্ষমতার লোভে তিনি আসন্ন নিৰ্বাচন নিয়েও গড়িমসি করেছেন এতদিন। কিন্তু আওয়ামীলীগ এরই মাঝে নিষিদ্ধ হয়েও তাদের নানান শক্তি প্রয়োগ করে জনমনে তাদের স্থান প্রমান করে দিয়েছে। ফলে জনগণের মাঝে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে হওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন হলেও ৬০ % মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এর কারণ, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখন বুঝছেন যে তাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। শেখ হাসিনাকে সরানো তাদের সবচেয়ে বড় ভুল। তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন যে হাসিনাকে সরিয়ে তারা যে অন্তর্বর্তী সরকারকে এনেছেন তাতে সমস্যায় ভুগছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা। তারা চাইছেন মানুষের প্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসুক। সাথে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই নেপথ্যে থেকে দেশ শাসন করতে পারে। এর ফলে তারা তাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্র করতে চাইছেন। তারা জানেন যে, আওয়ামীলীগ ব্যাতিত কোনও দলই এই মুহূর্তে বাংলাদেশ চালানোর মতো উপযুক্ত নয়। অর্থাৎ, তারা আওয়ামীলীগ ব্যাতিত কোনও দলের ওপরেই ভরসা করতে পারছেন না। কিন্তু সম্যসা হল আওয়ামীলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুললে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে থাকবে না। ফলে ভোট দানে বিরতই থাকবেন এই বিপুল পরিমান মানুষ।
জন সমীক্ষায় আওয়ামীলীগই জনপ্রিয়তার শীর্ষে। দেশের অধিকাংশ মানুষই আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় ফেরত চাইছে। সমীক্ষা বলছে, আওয়ামীলীগই পুনঃরায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে। অন্যদিকে, এ পরিস্থিতিতে ভারতের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে ইউনুসকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আওয়ামীলীগ অংশ নিতে না পারে তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিও অনিশ্চিত। যদি আওয়ামীলীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং দেশের বাকি দলগুলি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তবেই নিদিষ্ট সময় হাসিনা দেশে ফিরে যাবেন। আন্তর্জাতিক মহলে ভারত জানিয়েছে, নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে জাতিসংঘ ও রাষ্ট্রসংঘ এর ওপর থেকে চাপ আসবে ইউনূসের ওপর। এত কিছুর পরেও ইউনুস সাহেব রয়েছেন একদম ডোন্ট কেয়ার মুডে। ক্ষমতা আগলে রাখার জন্য ইউনুস এখন লেজ ধরেছে জামাতের। এখন দেখার কি রয়েছে ইউনূসের ভাগ্যে। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে হাসিটা কার মুখে ফোটে হাসিনা নাকি ইউনূসের।












Discussion about this post