ফের জেলবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় কুনাল ঘোষ। আদালতের তরফে আদালত অবমাননার মামলায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বিরুদ্ধে জারি করা রুল নোটিস। নারকেলডাঙা থানার মাধ্যমে হাইকোর্টের এই নোটিস পাঠানো হয়েছে কুনাল ঘোষকে। এই নোটিসে মূলত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা আদালত অবমাননার প্রকৃত কারণ উল্লেখ করাসহ আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা বলেছে আদালত।
উল্লেখ্য আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিমকে হেনস্থা ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর অবমাননার অভিযোগে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সেই মামলায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং উচ্চ প্রাথমিকের বিক্ষোভকারী সাত জন চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে রুল জারি করল হাইকোর্ট।
আদালতের নির্দেশ মেনে আগেই আদালতে হাজির হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ।
এর আগে আদালতে হাজির হয়ে শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তার বিরুদ্ধে আদালতের রুল জারির প্রসঙ্গে জানান,বিচারব্যবস্থাই এখন শেষ ভরসা। বিচার ব্যবস্থা রয়েছে বলে সমাজ টিকে আছে। তাঁর জীবনেও নানা ভাবে আদালত জড়িয়ে রয়েছে।
সূত্রের খবর, শেষবার আদালতে শুনানি চলাকালীন ফৌজদারি আদালত অবমাননা হয়েছে বলে উত্তর চায় আদালত। সেই উত্তর অভিযুক্তরা কেউ না দেওয়ায় বিরক্ত হয়েই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রুল জারি করে কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। আর এবার দেওয়া হল রুল নোটিস। কেন তাঁকে জেলে পাঠানো হবে না বা শাস্তি দেওয়া হবে না, সেই উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিসের মাধ্যমে।
কারণ আইন অনুযায়ী আদালত অবমাননার মামলায় যথাযথ উত্তর না পেলে জেলে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ই জুন। ঐদিন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষকে হাইকোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের সামনে উত্তরসহ সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । এমনকি আদালতের অনুমতি ছাড়া আদালত থেকে স্থান করতেও পারবেন না তৃণমূল নেতা সহ অভিযুক্তরা।
কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের চেম্বারের বাইরে বিক্ষোভ দেখান উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য এবং স্লোগান তুলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ এমনটাই অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় আদালত অবমাননার মামলা করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালায় বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীদের একাংশ । এরপর এই ঘটনা আদালতের সামনে আসলেপ্রধান বিচারপতির বেঞ্চ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। এরপরই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ । শুধু তাই নয়, বিচারপতি বসুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে, এরপর তার বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। অর্থাৎ ওই মামলায় কুণাল ঘোষ ছাড়াও নাম রয়েছে উচ্চ প্রাথমিকের সাতজন চাকরিপ্রার্থীর নাম। এবং এই মামলা জারির পর আদালতের তরফে অভিযুক্তদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সহ বাকি চাকরিপ্রার্থীদের হলফনামা জমা পড়েনি হাইকোর্টে। এরপরে আদালতের পর্যবেক্ষণ অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হল হাইকোর্টের তরফে। কিন্তু এই রুল জারি করার পরও এই আদালত অবমাননার প্রকৃত উত্তর সামনে না আসায় কুনাল ঘোষ সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের কাছে এই রুলের নোটিস পাঠালো কলকাতার উচ্চ আদালত।












Discussion about this post