ফের খবরের শিরোনামে সোদপুর। এবারে সামনে এল পর্নগ্রাফি! ভয়াবহ ঘটনা। উঠে আসছে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। তবে কি দিদিমণির রাজ্য ক্রমশ ভোগে যাচ্ছে? প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।
কিছুদিন আগেই আরজি করের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্ব। সেই আরজিকরের মহিলা চিকিৎসকের বাড়ি ছিল সোদপুরে। ফের আরো একবার চর্চায় উঠে এলো এই সোদপুর। গত বছর ডিসেম্বরে খরদার এক তরুণীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় ঘটে এক যুবকের। তাদের বন্ধুত্বও হয়। এমনকি ওই যুবক আরিয়ান খান ওই তরুণীকে জানায়, তার হাতে চাকরি রয়েছে। তাদের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি রয়েছে। সেখানেই তাকে চাকরি দেবে। সেই শুনে ওই খরদার তরুণী যায় হওয়ার ডোমজুড়ে। সেখানে গিয়েই তিনি বিপদে পড়েন। তাকে নাকি বলা হয়, বার ড্যান্সিং করতে হবে। কিন্তু ওই তরুণী রাজি হন না। তারপরই অভিযোগ, তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি তাকে অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। তারপরই তাকে অন্য একটি অফার দেওয়া হয় বলে জানা যায়। যেখানে পর্ন ভিডিওতে কাজ করতে বলা হয় তাকে। আর এই ঘটনায় জড়িয়ে রয়েছেন আরিয়ান খান এবং তার সম্ভবত মা শ্বেতা খান। তখনও ওই তরুণী রাজি করনি। তারপরই ওই তরুণীর উপর অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি ৫ মাস ধরে তার উপর অত্যাচার চালানো হয়। তিনি পালাতে সক্ষম হন। বাড়ি পৌছলে তাকে সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপরেই পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। হাওড়া সিটি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। যদিও আরিয়ান খান বা শ্বেতা খানের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়ি তালা বন্ধ। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় গোটা রাজ্য।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যদি রাজ্যে চাকরি থাকতো, চাকরির জায়গায় দুর্নীতি না থাকতো, তাহলে সামান্য কোনও চাকরির জন্য ওই তরুণীকে বা ওই তরুনীর মত হাজার হাজার তরুণীকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যে ঘটনা দিনের পর দিন চালিয়েছে আরিয়ান খান এবং শ্বেতা খান, সেখান থেকে ঢিল ছড়া দূরত্বে বাকরায় পুলিশ চৌকি রয়েছে। তাহলে কেন কোনও তথ্য পেল না পুলিশ? নবান্ন থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কি করে এই ঘটনা ঘটতে পারে? এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই জানা যায়, দশ বছর ধরে দেয়নি বাড়ি ভাড়া। এমনকি এই অভিযোগে পুলিসকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এমনটাই অভিযোগ। বরং যারা অভিযোগ করেছিলেন, তাদের কেস দিয়ে দেওয়া হবে বলে শাসন দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। জানা যায়, আসলে ওই এলাকায় এরা মধুচক্র চালাতেন বলে অভিযোগ। এমনকি বহু প্রভাবশালী আসতেন বলে খবর স্থানীয় সূত্রে। আর এখানেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে এই ঘটনার সামনে আসতেই। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সামনে আসতেই জাতীয় মহিলা কমিশন স্বতপ্রণোদিতভাবে এসে পদক্ষেপ করে। এখানেও রাজ্যের জাতীয় মহিলা কমিশন নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও কেন পুলিশ খতিয়ে দেখলো না সেই নিয়েও খুব প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে এটাও বলছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটলে গোটা পশ্চিমবঙ্গের চেহারাটা ঠিকই কি!












Discussion about this post