বাংলদেশে এই মুহূর্তে একটি ছবি খুব ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যমুনাতে সস্ত্রীক জেনারেল ওয়াকার সাক্ষাৎ করছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। আর এই ছবিটা সামনে আসতেই নানা মন্তব্য, বক্তব্য উঠে আসছে। কারণ তার ঠিক আগেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। আর সেখানে এপ্রিলে নির্বাচন হওয়ার কথা বলেন তিনি। তারপরই সস্ত্রীক সেনাপ্রধান যমুনাতে যাওয়া এবং দেখা করাটা অনেকেই অবাক করেছে। অনেকে হতাশ হয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ইউনূসের খাতায় নাম লেখালেন? শুধুই কি সৌজন্য সাক্ষাত? নাকি অন্য কোনও বিষয় রয়েছে? এদিকে ব্যাকফুটে যাচ্ছে বিএনপি। টোপে পড়েছে জামাত।
জানা যাচ্ছে, ঈদের দিন দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আর সেই ছবিটি খুব একটা গণমাধ্যমে সামনে আসেনি। তবে যেহেতু সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি সেনাপ্রধান এপ্রিলে নির্বাচন করানোটিকে মেনে নিচ্ছেন? তবে গোপন সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এখনও পর্যন্ত ডিসেম্বরে নির্বাচন করানো নিয়েই অনড় রয়েছে। এমনকি তিনি এটাও বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
আসলে গত বছর ৫ই অগাস্টের পর অনেকে ধারণা করেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে। এমনকি বিএনপির বিভিন্ন নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস এতটাই বেড়ে গিয়েছিল, যে তারা সারা দেশে নানা অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ঈদের আগের দিনও বহু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি চাঁদাবাজি থেকে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো, এই সমস্ত অভিযোগ তো রয়েছেই। ফলে বিএনপি ক্রমশ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মন থেকে সরে যাচ্ছে। ক্রমশ ব্যাকফুটে যাচ্ছে বিএনপি। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ যা যা করেনি, মাত্র কটা মাসে বিএনপি করে ফেলেছে। আর এই জায়গাতেই একটি খেলা
চলছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছিলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ আনন্দিত। এদিকে বিএনপির আমলে বহুল প্রচলিত হাওয়া ভবন, সেই হাওয়া ভবন নিয়ে বহু তথ্য সামনে আসছে। অনেকে বলছেন, বিএনপির আমলে বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এমনকি বিএনপির বিভিন্ন নেতার বারি থেকে গম উদ্ধার, বিভিন্ন গ্রেফতার….সেই সব খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে এই খবর এখন আওয়ামী লীগের তরফে প্রচার করা হচ্ছে না। বরং মোহমুদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সেল থেকে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। তারাই বিএনপিকে খারাপ প্রমাণ করার জন্য এই কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকে বলছেন, বিএনপি তো চাইছে ডিসেম্বরে নির্বাচন হোক। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বিপক্ষে কথা বলছেন। তারা জোরালো প্রতিবাদ বা আন্দোলন করছেন। কিন্তু বিএনপি আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সবথেকে বড় রাজনৈতিক শক্তি। তাহলে কেন সেই পরিমাণ জোরালো আন্দোলন করতে পারছে না বিএনপি? অনেকে বলছেন, আসলে সেটি করতে পারবে না খালেদা জিয়ার দল। তার কারণ, এই রকম প্রতিবাদ বা আন্দোলন করলে তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিএনপি গত দশ মাসের যেতে কার্যকলাপ করেছে, সেগুলির বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে মোঃ ইউনূসের ভাষণে বিএনপির মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, এপ্রিলে নির্বাচন হবে। এমনকি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতৃত্ব ,এমনকি তারেক রহমানও এই বিষয়ে হতাশ হয়েছেন। এমনকি লন্ডন সফরে মহম্মদ ইউনূস। সেখানেই একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। যে বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। যদিও এই বৈঠক হলে কতটা গুরুত্ব বহন করবে সেটা প্রশ্নাতীত। এদিকে অনেকে বলছেন, মহম্মদ ইউনূসকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতায় যারা বসিয়েছে, তারা নির্বাচন চায় না। তারা গণভোট করিয়ে ইউনূসকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। এমনকি জামাতও খানিকটা ইন্ধন যোগাচ্ছে। অনেকে বলছেন, জামাত একটি টোপ পেয়েছে। আসলে জামাত মনে করছে, বিএনপি জব্দ হলে তারা ক্ষমতায় আসবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে ব্যবস্থা করছেন মহম্মদ ইউনূস, তাতে জামাতও খুব বেশি সুবিধা করতে পারবেন না। ফলে বিএনপিকে ভাবতে হবে, জোরালো কোনও উপায়। প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেও নামতে পারে। কারণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের হারানোর কিছু নেই বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে সেনাবাহিনীর গতি প্রকৃতি অনেক বেশি সন্দেহজনক। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের। কারণ তিনি ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইলেও, ইউনূস জানিয়েছেন এপ্রিলে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, ঈদের দিন ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন সেনাপ্রধান, সেটা নিছক কি সৌজন্য সাক্ষাৎ? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও গল্প রয়েছে? উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।












Discussion about this post