কেন্দ্রে জোট সরকার নতুন নয়। ১৯৮৯ থেকে ২০২৪ প্রাপ্ত আসনের তালিকায় শীর্ষে বিজেপি। আসন কমলেও রেকর্ড বহাল বিজেপির। অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে অটুট মোদী সরকারের জয়। তবে এই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইনি বিজেপি। ২৪০ আসনে থেমে গিয়েছে তাদের বিজয়রথ। অর্থাৎ আগামী ৫ বছর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরনির্ভর সরকার চালাতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে জোটসঙ্গীদের দিকে। আপাতত নীতীশ কুমারের জেডিইউ ও চন্দ্রবাবুর নাইডুর টিডিপি সরকার টিকিয়ে রাখতে বড় ভরসা মোদীর। দুই দলের ২৮ টি আসন কার্যত প্রাণভোমররা কেন্দ্রের মোদী সরকারের কাছে। এখন প্রশ্ন নীতীশ ও চন্দ্রবাবু নাইডুর মত রাজনীতিবিদরা বহুবার দল পরিবর্তন করেছে। তাদের ভরসায় আদৌ কি সরকার টিকিয়ে রাখা সম্ভব। সম্ভব কি সম্ভব নয় আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দাবি-দাওয়া কোনদিকে গড়ায় তার উপর নির্ভরশীল। তবে আপাতত কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর রাখা প্রয়োজন। কম আসন পেয়ে কেন্দ্রে জোট সরকার নতুন নয়। আগেও কংগ্রেস ও বিজেপির তরফে জোট শরিকদের সঙ্গী করে সরকার গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রে। বিভিন্ন ইস্যুর প্রেক্ষাপটে আসন কমেছে চোখে পড়ার মতো। ১৯৮৯ থেকে ২০২৪ কংগ্রেস ও বিজেপি কটা আসন পেয়েছে একনজরে দেখে নেব
বিজেপি ও বিরোধীদের আসন সংখ্যা (১৯৮৯-২০২৪)
১৯৮৯- কংগ্রেস ১৯৭ টি আসন
১৯৯১- কংগ্রেস ২৩২ টি আসন
১৯৯৬- বিজেপি ১৬১ আসন
১৯৯৮- বিজেপি ১৮২ টি আসন
১৯৯৯- বিজেপি ফের ১৮২ টি আসন
২০০৪ – কংগ্রেস ১৪৫ টি আসন
২০০৯ – কংগ্রেস ২০৬ টি আসন
২০১৪- বিজেপি ২৮২ টি আসন
২০১৯- বিজেপি ৩০৩ টি আসন
২০২৪- বিজেপি ২৪০ টি আসন
উপরের তালিকার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে ২০১৯ ও ২০১৪ নির্বাচন ছাড়া বিজেপির মতো কোনদলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাইনি। সকলেই জোট সরকারে থেকে সরকার চালিয়েছেন। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে মূলত ২ টি কারণে। এক, মোদী আগে কখনও জোট সরকার চালাননি। কেন্দ্রে ও রাজ্যে সবসময় একক নির্ভরতায় সরকার চালিয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। গোধরা কাণ্ডের ছিটে তাঁরও গায়ে লেগেছিল। কিন্তু ভোটে তা বিশেষ প্রভাব পড়েনি। অর্থাৎ বলাবাহুল্য জোট সরকার চালানোর মতো অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে নেই। অন্যদিকে নীতীশ কুমারের মত জোটসঙ্গীরা যে একেবারেই নির্ভরযোগ্য নয়, তা বার বার তাঁদের দল পরিবর্তনে প্রমাণিত হয়েছে। এনডিএ বিরোধী ইন্ডি জোট ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে এনডিএ সরকার পতন কেবল মাত্র সময়ের অপেক্ষা। মোদীকে নিশানা করে আদতে যে নীতীশদের মত রাজনৈতিকবিদদের নিশানা করা হচ্ছে তা জলের মতো পরিষ্কার। এতসব সত্ত্বেও অনেকেই আস্থা রাখছেন নরেন্দ্র মোদীর বিচক্ষণতায়, দুরদর্শিতায়, চাণক্য অমিত শাহের বুদ্ধিমত্তায়। মোদীজির মতো রাজনীতিক কারবারিদের কাছে এই বিষয়গুলি আদতে বায়ে হাত কা খেল। বলছেন অনেকেই।












Discussion about this post