ফের বিতর্কের কেন্দ্রে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র । মতুয়া সমাজ নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তাল বাংলার রাজনৈতিক মহল। মতুয়াদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার ভাবনাচিন্তাও করছে মতুয়াদের একাংশ। মতুয়া মহাসঙ্ঘ লিগাল সেল এই নিয়ে মহুয়াকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। এই সংগঠনেরই নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের একটি সভা থেকে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল, আর ভোটের সময় সনাতনী! এটা কী অঙ্ক ভাই?” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “কাঠের মালা পরে সব তো চলে আসেন ভাই ভাতা নিতে! তখন কী হয়?”
শুনে নেবো তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কী বলেছেন ,
এই বিতর্ক ঘিরে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামী সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’। সংগঠনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে দলেই অভ্যন্তরে মহুয়াকে নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অপরদিকে, বিজেপি এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। তৃণমূল সাংসদ মহুয়ার মৈত্রের মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। মুখ খুলছেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
কৃষ্ণনগরের সাংসদের বক্তব্যকে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সমাজের ধর্মীয় অনুভূতি ও আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট বেশ কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় একটা বড় ফ্যাক্টর। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় মতুয়াদের ভালো প্রভাব আছে। বিশ্লেষকরা দাবি করেন, মতুয়া ভোটে ভর করেই এই রাজ্যে বিজেপি ভালো ফল করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে অবশ্য মহুয়াকে নিয়ে বরাবরই অস্বস্তি ছিল। আগেও তাঁর মা কালী বিষয়ক মন্তব্যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তখন দল কৌশলে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল। তবে এ বার মমতাবালার অনুগামীদের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠি বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে সাধারণ সম্পাদক সুকেশচন্দ্র চৌধুরীর স্বাক্ষর ও রয়েছে । তাতে লেখা হয়েছে—কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে মতুয়া, নমঃশূদ্র ও তফসিলিদের সুবিধা পাওয়াকে বিদ্রূপ করেছেন । এমনকি মতুয়া সমাজের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘আচারমালা’-কেও ‘কাঠের মালা’ বলে কটাক্ষ করেছেন । সংগঠনের দাবি, এই মন্তব্যে মতুয়াদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আত্মসম্মান গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে । ফলে সমগ্র মতুয়া-তফসিলি সমাজ ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত ।
শুনে নেবো সাধারণ সম্পাদক সুকেশচন্দ্র চৌধুরীর কী বলেছেন
মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন, এই অবস্থায় এখন নজর মুখ্যমন্ত্রীর দিকে । তিনি কিংবা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেন কি না, সেটাই দেখার।












Discussion about this post