আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনেই দু’টি স্তরে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ প্রথম দিনের পরীক্ষার জন্য হাতে সময় মাত্র দুটো দিন। চাকরিহারাদের একাংশ এখনও এই পরীক্ষার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও, একটা বড় অংশ আবার বুঝে গিয়েছেন যে হারিয়ে ফেলা চাকরি ফিরে পেতে নতুন করে পরীক্ষায় বসা ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই। চাকরি কি ফিরে পাওয়া যাবে? এ নিয়ে রয়েছে আশা ও আশঙ্কার দোলাচল। শুধু চাকরিহারারাই নয়, আশঙ্কার মেঘ জমেছে এসএসসির অন্দরমহলেও।
বহু চাপানউতোর মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর, সুপ্রিম ভর্ৎসনা সহ্য করে শেষমেষ নতুন করে পরীক্ষার আয়োজন করতে চলেছে এসএসসি। কিন্তু সেখানেও রয়েছে প্রতিকূলতা রয়েছে. রযেছে একাধিক চ্যালেঞ্জও। যা তাদের জন্য পেরনো কতটা সোজা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এর পাশাপাশি, নতুন করে আইন সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়তে হবে না তো? বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এসএসসি-র অন্দরমহলে। সুপ্রিম নির্দেশে নতুন নিয়ম মেনে কয়েক মাস আগেই পরীক্ষার জন্য নতুন বিধি জারি করে এসএসসি। তাতে একাধিক নিয়ম বদল হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল ওএমআর শিট ঘিরে। ২০১৬ প্যানেলর ওএমআর শিট না মেলায় বহু অযোগ্যদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। একাংশের দাবি ১৮০৬ জনের নাম চিহ্নিত অযোগ্যের তালিকায় দাখিল করা হলেও, গোটা প্যানেলকে ত্রুটিহীন করা একেবারেই সম্ভব হয়নি। কিন্তু চলতি বছর যখন নতুন করে পরীক্ষা নিতে চলেছে এসএসসি। সেই সময় এই ওএমআর শিট সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সাধারণত,পরীক্ষা হওয়ার পর এক বছর ওএমআর শিট সংরক্ষণ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই বছরই তা বাড়িয়ে ১০ বছর করে দিয়েছে এসএসসি।
পাশাপাশি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেড়েছে নিয়োগ প্যানেলের মেয়াদ। যেখানে সাধারণভাবে একটি প্যানেলের সময়কাল থাকে ১ বছর , সেখানে এবার তা ১ বছর ৬ মাস করা হয়েছে। চাকরিহারাদের সুবিধার্থে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও দেওয়া হবে নম্বর। নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল ৫৫ নম্বরে। এবার লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে ৬০ নম্বরে।
চাকরি হারাদের একাংশ দাবি করছে অযোগ্যদের লিস্ট প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরে পরীক্ষা দেওয়ার কোন মানে হয় না তাই তারা পরীক্ষা দিতে নারাজ। এসএসসি নিয়োগের প্রক্রিয়ার জন্য নতুন বিধি জারি করতেই প্রশ্ন উঠেছিল, পরীক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নম্বর নিয়ে। এসএসসি প্রথমে জানিয়েছিল, প্রার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। ২০১৬ সালেও এই নিয়ম বহাল ছিল।
তবে তাতে ছিল কিছু শর্ত। যেমন, ২০১০ সালের আগে স্নাতক হওয়া প্রার্থীদের সাধারণ আসনের জন্য ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ এবং সংরক্ষিত আসনের জন্য ৪০ শতাংশ নম্বর পেলেও চলত। অবশ্য এই বিধি পরবর্তীতে বদল করে এসএসসি। ফলে সাময়িক স্বস্তি পান চাকরিহারারা। কিন্তু এত বছর পর, নতুন করে পরীক্ষায় বসা তো কম ‘চ্যালেঞ্জিং’ নয়। তাই আশঙ্কা থেকেই যায়।
অনিয়মের ফলেই যে এত বড় দুর্নীতি ঘটেছে, এই নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে রাজ্য়ের স্কুল সার্ভিস কমিশন নয়া বিধি জারি করতেই চড়েছে বিতর্ক। আইনজীবী তথা সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “২০১৬ সালের নিয়মের বাইরে গেলেই তা বাতিল হয়ে যাবে।
তালিকা প্রকাশ হওয়ার দু’দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট থেকে এসএসসি-কেও দাগিদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এসএসসি-কে প্রশ্ন করেন, সিবিআইয়ের তালিকায় আরও নাম ছিল, এখানে এত কম নাম কেন? এর উত্তরে কমিশনের পাল্টা বক্তব্য, সিবিআই-এর তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের সবাইকে নিয়োগ করা হয়নি। যে সমস্ত দাগিরা নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের নামই তালিকায় রয়েছে। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “প্রথম যে তালিকা বার করেছে, সেটাকে তালিকা ১ বলে উল্লেখ করেছে, সেই রাতেই আমরা বলি, এক বিধায়কের মেয়ের নাম দেওয়া হয়নি। তারপর আবার আরেকটা সংযুক্তিকরণ আসে। ফলে পরিস্কার, কমিশনের পক্ষ থেকে যতটা পারছে, সংখ্যাটি কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, তালিকা সম্পূর্ণ নয়। এর বাইরে আরও অনেক অযোগ্য রয়েছেন। নতুন পরীক্ষা হলেও, তা কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে? আগের অভিজ্ঞতাই ফিরে আসবে না তো চাকরিহারাদের মধ্য়ে? ভয় রয়েছে সেই নিয়েও। এইরকম পরিস্থিতিতে কি আদৌ নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে ৭ ও ১৪ তারিখের পরীক্ষা, প্রশ্ন অনেক কিন্তু উত্তর নেই।












Discussion about this post