বুধবার হুগলি জেলায় বিজেপির আরামবাগ সংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে আয়োজিত “বিজয় সংকল্প যাত্রার” অনুষ্ঠানে নিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি বিকেলে খানাকুল বিধানসভার রাজহাটি মধ্যাড়ঙ্গ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার মিছিল করেন পায়ে হেঁটে । সন্ধ্যায় একটি জনসভায় ভাষণ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সভায় ব্যপক ভিড় হয়েছিল এবং মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি শুধু আরামবাগেই নয় সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত জায়গায় শুভেন্দু অধিকারী সভা করছেন, সেখানেই উপচে পড়ার মতো ভিড় চোখে পড়ছে। বুধবার খানাকুল সভাতে কর্মসূচি করার জন্য তিনি উপস্থিত জনতা ও দলের কার্যকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দ অধিকারীকে বলতে শোনা যায়, ভোট শেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ, একেবারে ভোকাট্টা। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সর্বভুক আখ্যা দিয়ে বলেন, তৃণমূল সব খায়। তাঁর কথায়, এমন কোনও জিনিস নেই যা তৃণমূল খায় না। পাথর থেকে শুরু করে বালি, কয়লা সব কিছু খায়, ভাইপো দেশি মদের বোতলে আড়াই টাকা করে নেয়, সাথে গরুও পাচার করে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে তিনটি রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতিতে চাকরি হারিয়েছিলেন শিক্ষকরা। বাম সরকারের সময় গিয়েছিল ত্রিপুরায়, কংগ্রেস জামানায় গিয়েছিল হরিয়ানাতে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের জামানায় গেল পশ্চিমবঙ্গে।
দাগি এবং অযোগ্যদের তালিকা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দািব, ওই তালিকা এখনও অসম্পূর্ণ। আমি তালিকা প্রকাশ করে দেব ১৯৫৮ জনের। পাশাপাশি ওই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাইজির নামও বাদ গিয়ছে বলে দাবি বিরোধী দলনেতার।
প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে “তু খিঁচ মেরি ফটো” বলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘প্রতিবছর জলে ভাসাবে আর ডিভিসি-এর ঘাড়ে দোষ চাপাবে। এ বছর জুন মাস থেকে এই রাজ্যের তিনটে অঞ্চল এখনও পর্যন্ত পাঁচবার ভেসেছে। তাঁর কটাক্ষ, ভাদ্র মাসে আর একটা যোগআছে, অপেক্ষা করছি ক্ষতি হয় কিনা । চোদ্দ বছর চার মাস ধরে কি করলেন ?’ তিনি বলেন,’তু খিঁচ মেরি ফটো । গাড়ি করে আসবে, পুলিশ দিয়ে সাজানো থাকবে। ক’দিন আগে আরামবাগে এসেছিল। আমি ছবি ছেড়েছিলাম। মমতা ব্যানার্জির ছবি তুলছে -তু খিঁচ মেরি ফটো। পাশের তরকারি বাড়িয়ে দিচ্ছে হুদা খান । হুদা কে? হুদা এই চত্বরের অন্যতম বড় বালি মাফিয়া। একটা ঘাটের টেন্ডার হলে ৫০ টা থেকে বালি তুলছে । গোটা নদী ধ্বংস করে দিয়েছে। জনপ্লাবনের মাঝে দাঁড়িয়েই বিরোধী দলনেতার আহ্বান, গতবার আমরা ৭৭ টা আসন পেয়েছি। এবার আমাদের ১৪৮ টা আসন দিন। গুনে গুনে ১৪৮ টা আসন দিন। বিজেপি এক বছর টাইম নেবে। ভারত সরকারের জলশক্তি দফতরের সাহায্য নিয়ে আমরা এই এলাকায় “বন্যা” নামক শব্দটিকে চিরতরে মুছে ফেলব । কথা দিয়ে গেলাম।’ বঙ্গ রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, যেভাবে শুভেন্দু অধিকারীর জনসভা বা পথ সভায় জনপ্লাবন হচ্ছে, তা শাসকদলের কাছে অশনী সংকেত।












Discussion about this post