জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতি বছর বেশ কিছু খাদ্যদ্রব্যের দাম অগ্নিমুল্য হয়ে যায়। এবছর জলবায়ু পরির্তনজনিত কারণে গমের ফলন খুব কম হয়েছে। ফলে হু হু করে বাড়ছে গমের দাম। খুচরো ও পাইকারি বাজারে আটার মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরো বাড়তে পারে বলে অনুমান। এর ফলে গমের মূল্য যেমন আস্তে আস্তে বাড়বে। তেমনি বাড়বে রুটির দাম। গমের দাম বেড়ে যাওয়ায় রুটির মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, গম আমদানি উপর নিষেধাজ্ঞা উঠতে পারে। রেকর্ড ফলনের সত্ত্বেও কিছু কিছু জায়গায় গম ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রুটির দাম বাড়তে পারে।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রক প্রয়োজনের তুলনায় গমের ফলন কম হওয়ার ও বিশেষ কারণ দর্শিয়েছেন। আবহাওয়ার অত্যাধিক তারতম্য। হঠাৎ করে বৃষ্টি হওয়া। একটানা তাপমাত্রার অত্যাধিক বৃদ্ধি, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, এইসবের কারনে ২০২২ ও ২০২৩ সালে অনেক টাই উৎপাদন হার কমেছে। উৎপাদন হার কমার ফলেই, পাইকারি ও খুচরা বাজারে গম ও আটার মূল্য অত্যাধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে লোকসভা ভোটের পরে খুব বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে পারে আটা ও রুটির দাম। আশঙ্কা করা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের রেজাল্ট আউটের পর পরই আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুচরো বাজারে গমের দাম ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৩ শতাংশ। আরো ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনুমান করা হচ্ছে। তাছাড়া গম উৎপাদনের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল অনুমান করছে।
প্রতি বছর কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে গম কেনে সরকার। আপাদ কালীন সময়ের কথা ভেবে এই গম গুদামজাত করা হয়। যাতে গমের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেলে মজুত গমের সাহায্যে এই গম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাছাড়া এই গমের একটা বড়ো অংশ রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে জনসাধারণের উদ্দেশ্য বিলি করা হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। বর্তমানে ৮১ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে গমের পরিষেবা দেওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে ।
এর আগে ৩০-৩২ টন গম সংগ্রহ করার রেকর্ড আছে কেন্দ্রীয় সরকারের। তবে গত বছর গুলির তুলনায় এ বছর গম কিনেছে কেন্দ্র সরকার। যার ফলে গমের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। সাথে, মধ্যপ্রদেশের ফলন বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই খাদ্য শস্য গুদামজাত করার পরিমাণ অনেকটাই কমেছে।












Discussion about this post