আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হন, তবে আপনি সারা বছরই ঘুরতে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকবেন। সুযোগ পেলেই যাতে টুক করে কোথাও ঘুরে আসা যায়। যেমন এই ভরা বর্ষতেও আপনি যেতে পারেন কয়েকটি জায়গায়। যেখানে সবুজ পাহাড়, মেঘেদের আনাগোনা, রুপসী ঝর্ণার অপূর্ব সৌন্দর্য। এমনই এক জায়গা হল মৈনপাট, ছত্তীসগড়ের এক অপূর্ব সুন্দর শৈলশহর।

বছর ভর এই এলাকা রুক্ষ থাকলেও বর্ষায় অন্য রূপ ধারণ করে। বর্ষা এলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ছোট্ট এই শৈলশহর তখন সবুজ গালিচার মতো ছড়িয়ে পড়ে চোখের সামনে। সবুজের বুক চিরে পাকদণ্ডীর মতো আঁকাবাকা কালো পিচের রাস্তা। পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের আনাগোনা। যেন প্রকৃতি রঙিন এক ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে অপূর্ব সুন্দর ছবি। ছত্তীসগড়ের মৈনপাটের নাম ভ্রমণপিপাসুদের কেউ কেউ শুনে থাকলেও বেশিরভার বাঙালি জানেন না। তাই আসুন আজ আপনাদের নিয়ে যাই মিনি তিব্বত নামে পরিচিত সুন্দরী মৈনপাটে।
ট্রেনে মৈনপাট যেতে হলে আপনাকে নামতে হবে ওড়িশার ঝাড়সাগুডা স্টেশনে। হাওড়া থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন পেয়ে যাবেন। যেমন হাওড়া মুম্বই মেল, আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস, সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস। ঝাড়সাগুডা স্টেশন থেকে মৈনপাটের দূরত্ব কমবেশি ২১০ কিলোমিটার। এই পথ আপনাকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে। সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। মৈনপাটে থাকার জন্য রয়েছে একাধিক রিসর্ট, হোটেল। আর মৈনপাট যেহেতু মিনি তিব্বত, সেহেতু এখানে লোভনীয় চাইনিজ পদ আপনার রসনা তৃপ্ত করবে এ কথা বলাই বাহুল্য।

এবার জেনে নেওয়া যাক, মৈনপাটে কি কি দেখবেন। আর কেনই বা বর্ষাকালেই মৈনপাট ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়। শোনা যায়, চিন যেবার তিব্বত দখল করে নিয়েছিল, সেবার তিব্বত থেকে বহু মানুষ ভারতে এসে আশ্রয় নেন। তাঁদেরই একটা বড় অংশ ছত্তীসগড়ের মৈনপাটে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। সেই থেকেই এই জায়গা মিনি তিব্বত নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। পাহাড় ঘেরা মৈনপাটের প্রতিটি বাঁকেই আপনি দেখবেন তিব্বতি রঙিন পতাকা, দূরে-অদূরে বৌদ্ধ্ব মঠ। আপাত শান্ত এবং নির্জন মৈনপাটে ঘোরার জায়গার অভাব নেই। এরমধ্যে অন্যতম হল প্রাকৃতিক বিশ্ময় উল্টাপানি। নামেই রয়েছে এর বিশেষত্ব, কারণ এই জল উল্টোগিকে প্রবাহিত হয়। সেই জলপথে কাগজের নৌকো ভাসিয়ে দিলেই স্পষ্ট হবে এর গতিবিধি। যদিও খুব পাতলা তিরতিরে জলের একটি ধারা উল্টাপানি। কিন্তু এর আকর্ষণ দারুণ।

এখান থেকে একটু এগোলেই পরপটিয়া ফিশ পয়েন্ট। এর পাশেই জলজলি পয়েন্ট। এখানে আসলে এক অদ্ভূত ভূমিরূপের সাক্ষী থাকবেন। জলজলি পয়েন্টে গেলে মনে হবে মাধ্যকর্ষণ বল কমে গিয়েছে। এই জায়গাটিতে লাফালে বুঝতে পারবেন, কী হচ্ছে? এই জায়গাকে বলা হয় ‘বাউন্সিং গ্রাউন্ড’।
মৈনপাট শহরের আনাচ-কানাচে রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। যেমন কুটুমসার গুহা টাইগার পয়েন্ট জলপ্রপাত, রাজপুরী জলপ্রপাত ইত্যাদি। টাইগার পয়েন্ট নামের পিছনে রয়েছে বাঘের গল্প। কোনও এক সময় সেখানে নাকি বাঘের দেখা মিলত। গোটা মৈনপাটে রয়েছে বেশ কয়েকটা বৌদ্ধ গুম্ফা ও বৌদ্ধ স্তুপ। তবে মৈনপাটে বর্ষার সময় গেলেই এখানকার প্রকৃত রূপ আপনি দেখতে পাবেন। বর্ষায় পাহাড়গুলি যেমন সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে তেমনই জলপ্রপাতগুলিও হয়ে ওঠে সুন্দরী ও ভয়ঙ্কর। এছাড়া রাতের শান্ত ও নির্জন মৈনপাটে বর্ষার শব্দ এবং ঝিঁঝি পোকার একটানা গান, আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।












Discussion about this post