নবাবের শহর মুর্শিদাবাদ। আর এই ঐতিহাসিক শহরের মূল আকর্ষণ হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। দুয়ার মানে দরজা, সেই অর্থে এই প্রাসাদে রয়েছে এক হাজারটি দরজা। স্থানীয়দের বিশ্বাস এটাই। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই হাজারটি দরজার মধ্যে আদতে রয়েছে ৯০০টি দরজা, আর বাকি ১০০টি নকল। হাজারদুয়ারী প্যালেসে সবকটি দরজাই দেখতে অবিকল এক। কিন্তু কেন এই প্রাসাদে এতগুলি দরজা রাখা হয়েছিল, কেনই বা ১০০টি নকল দরজা তৈরি করা হয়েছিল আসল দরজার মাঝে।
ভাগীরথী নদীর তীরে প্রায় ১২ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে ৮০ ফুট উঁচু হাজারদুয়ারী প্যালেস। বর্তমানে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এই ঐতিহাসিক প্যালেসের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে। এর ভিতরে একটি অংশে এখন মিউডিয়াম রয়েছে। তিনতলা প্রাসাদের একতলায় অস্ত্রাগার, অফিস এবং রেকর্ড রুম। অস্ত্রাগারে রয়েছে ২,৬০০টি অস্ত্র। দোতলায় রয়েছে দরবার হল, পাঠাগার এবং অতিথিদের বিশ্বামকক্ষ। তিনতলায় নবাব এবং বেগমদের থাকার ঘর রয়েছে। কিন্তু হাজারদুয়ারী প্যালেসের সবচেয়ে আকর্যণ হল এর হাজারটি দরজা।
মোঘল বাদশাহ ঔরাঙ্গজেবের মৃত্যুর পর ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খাঁ ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী সরিয়ে নিয়ে আসেন। মুর্শিদকুলি খাঁয়ের নামেই মুর্শিদাবাদ শহরের নামকরণ। তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম নবাব। তার পর বাংলার মসনদে একে একে বসেছেন সুজাউদ্দিন খাঁ, সরফরাজ খাঁ, আলিবর্দি খাঁ এবং সিরাজ-উদ-দৌল্লা। এই সিরাজ-উদ-দৌল্লাকে পরাজিত করে ইংরেজরা মীরজাফরকে বাংলার নবান করেন। এরপরই বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা কার্যত ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। অনেকে মনে করেন, এই হাজারদুয়ারী প্রাসাদ নির্মান করিয়েছিলেন সিরাজ-উদ-দৌল্লা। কিন্তু এই তথ্য ভূল। কারণ তিনি যে প্রাসাদটি নির্মান করিয়েছিলেন, তা এখন ভাগীরথীর গর্ভে বিলীন। এর অনেক পরে নবাব নাজিম হুমায়ুন জং তৈরি করিয়েছিলেন আজকের হাজারদুয়ারী প্রাসাদ। এর মূল স্থাপত্যকার ছিলেন ডানকান ম্যাকলিওড। তবে এক সাগর মিস্ত্রি নামে এক বাঙালি রাজমিস্ত্রি ছিলেন এই ডানকান সাহেবের অন্যতম সহযোগী। হাজারদুয়ারী প্রাসাদ নির্মানকাজ শুরু হয় ১৮২৯ সালে এবং শেষ হয় ১৮৩৭ সালে। ইউরোপীয় ঘরানার এই প্রাসাদে বিশেষকরে নজর কাড়ে ইতালীয় নির্মানশৈলী।
মূল নকশা অনুযায়ী এই প্রাসাদের চারদিকে এক হাজারটি দরজা আছে। যার মধ্যে ১০০টি নকল। কারণ হিসেবে মনে করা হয় বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্যই এই কৌশল। তবে ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এর পিছনে আরও একটি কারণ ছিল। একসময় এই হাজারদুয়ারী প্রাসাদ থেকেই নবাবরা বাংলা শাসন করতেন। ফলে এই প্রাসাদেই বিচার করা হতো অপরাধী এবং রাজনৈতিক বন্দিদের। ফলে তাঁরা যাতে ফাঁকি দিয়ে পালাতে না পারেন, সেই কারণেই ১০০টি নকল দরজা রাখা হয়েছিল। আর বাকি ৯০০টি দরজার একটিই চাবি ছিল।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। এর মধ্যে অনেক পার্বনই আছে যা গোটা দেশেই পালন করা হয়, তবে অন্য নামে। যেমন...
Read more












Discussion about this post