প্রায় ৫০ মিনিটের লম্বা ক্রিকেট আড্ডা । স্থান বেহালার বীরেন রায় রোডের এক বিখ্যাত লাল রঙের বাড়ির ড্রইংরুম । যে দুজন গল্পে মত্ত তাঁদের একজন নামের পাশে লেখা ১১৩ টেস্ট, অন্যজন ৪০ । বাংলার ক্রিকেটের দুই অন্যতম শ্রেষ্ঠ চরিত্রের প্রথম জনের নাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যজন ঋদ্ধিমান সাহা। সোমবারের বৃষ্টি ভেজা দুপুর তখন বিকেলের পথে । সেই ৫০ মিনিটের লেখা হয়ে গেল বাংলার ক্রিকেটের সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় ঘটনাটা। বাংলার উপর অভিমান করে ত্রিপুরা চলে যাওয়া ঋদ্ধিমান ফিরছেন বাংলায়। সোজা কথা ঘরের ছেলে ফিরছেন ঘরে। খুব তাড়াতাড়ি ত্রিপুরা ক্রিকেট সংস্থার কাছে এনওসির আবেদন জানাচ্ছেন ঋদ্ধি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে খেলবেন ঋদ্ধিমান সাহা । এমন যে হতে চলেছে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টের পাওয়া যায়নি। আইপিএল অভিযান শেষ করে দুজনেই কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন।
ঋদ্ধি তো ময়দানে কালীঘাটে ক্লাবে নিজের ক্যাম্পেও যাচ্ছিলেন নিয়মিত । সৌরভ এবং ঋদ্ধির মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মিটে গিয়েছে এমন ও কোন খবর ছিল না । তাহলে কিভাবে সম্ভব হলো সবকিছু? তিনটে কারণ উঠে আসছে। এক, পারিবারিক কারণে ঋদ্ধি নিজেই ত্রিপুরা ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসতে চাইছিলেন। তার স্ত্রী রোমি-ও এ ব্যাপারে বোঝাতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। সৌরভের সঙ্গে ছবি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করেন।
দুই ,মনোজ তিওয়ারি অবসর নেয়ায় বাংলার ক্রিকেটে এখন অভিজ্ঞ ব্যাটার প্রায় নেই । এই অবস্থায় ঋদ্ধি ফিরলে সেই অভাব অনেকটাই ঢেকে যাবে। উইকেট কিপিং যদি নাও করেন শুধু ব্যাটার হিসেবে ঋদ্ধি যথেষ্ট ।যা খবর বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লাও এটা চেয়েছিলেন ।
তিন, সৌরভের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা সিএবি কর্তা সঞ্জয় দাসের ভূমিকা ।এই পুরো মেলবন্ধনের বিরাট ভূমিকা রয়েছে তার । সঞ্জয় অবশ্য রহস্যময় হেসে বললেন,টানা প্রায় এক ঘন্টা দারুণ একটা ক্রিকেট আড্ডা শুনলাম। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আসলে বাংলার উপরে কোনদিনই কোন ক্ষোভ ছিল না। ঋদ্ধি তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সিএবি সচিব দেবব্রত দাসের অপমানজনক মন্তব্যের জন্যই ঘর ছেড়েছিলেন। ঘটনা হলো ঋদ্ধি যখন বাংলায় ফিরলেন তখন ক্লাব ক্রিকেটে গড়াপেটেকে জড়িয়ে দেবব্রত কোণঠাসা। সেসব পরের কথা আপাতত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অবশ্যই বাংলার ফের ঋদ্ধি লাভ।












Discussion about this post