অনুব্রত মণ্ডলের ভাইরাল অডিও কাণ্ডে হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্র। আসরে নামল জাতীয় মহিলা কমিশন। বেঁধে দেওয়া হল সময়। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে চিঠি দিল জাতীয় মহিলা কমিশন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনুব্রতের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের রিপোর্ট পুলিশকে পাঠাতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা।
রাজ্য পুলিসের আইসিকে হুমকি দিয়ে, গালাগালি করে পুলিশের থেকে ঈষৎ নিস্তার মিললেও, ছেড়ে দিল না দিল্লি। জাতীয় মহিলা কমিশন করা হাতে আসরে নামল। মহিলা কমিশনের চিঠিতে লেখা, একজন মহিলার বিরুদ্ধে হুমকি এবং গালাগালি শুধুমাত্র সামাজিক ও মূল্যবোধের অবক্ষয় শুধু নয়, এটি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। অর্থাৎ বোলপুরের আইসিকে ফোনের হুমকির ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশন সেটিকে ক্রাইম বলে অভিহিত করছে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায়সংহিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যার অতীতে অপরাধের ছাপ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে এখন কোন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কেন? যদি একজন উচ্চপদস্থ করে আধিকারিককে যদি হুমকির মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঠিক কোথায়? এরকম একটি চিঠি দিয়ে রাজ্য পুলিশকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে অনুব্রত এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের রিপোর্ট চেয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। এ বিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য ড. অর্চনা মজুমদার কি জানিয়েছেন, শুনুন
প্রসঙ্গত দিন কয়েক আগেই একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে শোনা যায়, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোন করেছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তারপরই তীব্র গালাগালি দিয়ে ওই পুলিশ অফিসার কে হুমকি হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেতা। শুধু তাই নয়, ওই আইসির মা ও স্ত্রীর নামেও তীব্র গালাগালি দিতে থাকেন। আর এই অডিও সমাজ মাধ্যমের ভাইরাল হতেই বেকায়দায় পড়েন অনুব্রত। দলের তরফে তাকে শোকজ করা হয়। তারপরেই অনুব্রত মণ্ডল একটি ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষমা চান। অন্যদিকে পুলিশও তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। তাকে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে ডেকে পাঠানো হলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে হাজিরা এড়িয়ে যান। শুধু তাই নয়, একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে বেড রেস্ট এর কথা বলে তিনি হাজিরা দেননি। অথচ দেখা যায় তিনি পার্টি অফিস যেতে পারছেন, অথচ থানায় না যাওয়ার জন্য অসুস্থতার কারণ দেখাচ্ছেন। যদিও শেষমেশ বৃহস্পতিবার পুলিশের সম্মুখীন হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে যে ফোন থেকে বোলপুরের আইসি লিটন হালদার কে ফোন করেছিলেন তিনি, সেই ফোন পুলিস বাজেয়াপ্ত করেনি বলে খবর। উল্টে ওই আইসির ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশের এই উলট পুরান দেখে ক্রমশ সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। তবে জাতীয় মহিলা কমিশনের চিঠির পর আদতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা কি হয় অনুব্রত কান্ডে, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post