চার দিনের সরকারি সফরে ব্রিটেন যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বিগত ১০ মাসের তাঁর শাসনকালে এটা তাঁর ১১তম বিদেশ সফর। আগামী ১০ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত চলবে ব্রিটেন সফর। জানা যাচ্ছে, ব্রিটানের রাজপরিবারের সদস্য রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সম্মানজনক পুরস্কার গ্রহণ করাই তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ব্যক্তিগত কারণেই তাঁর লন্ডন যাত্রা। কিন্তু সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত সফর করা যায়? এই প্রশ্ন উঠতেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলতে শুরু করেছে অন্যান্য কয়েকটি কূটনৈতিক বৈঠক রয়েছে তাঁর সফর সূচিতে। তবে সেই বৈঠকগুলি কার কার সঙ্গে, তা জানানো হয়নি। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে যে বিষয়টি নিয়ে সেটা হল লন্ডনে মুহাম্মদ ইউনুস ও তারেক রহমানের মধ্যে সাক্ষাৎকার।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে প্রবাসী। আওয়ামী লীগের আমলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। তারপর থেকে তিনি লন্ডনেই রয়েছেন। উল্লেখ্য মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পরই তারেক রহমান-সহ বহু বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থাকা মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। বহু মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান। এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা নেই। কিন্তু বর্তমানে অন্তরবর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির মধ্যকার নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ নিয়ে মতপার্থক্য চরম আকার নিয়েছে। তারেক রহমানও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্বাচন চেয়ে ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছেন। এই অবহেই লন্ডন যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ফলে তিনি যাতে লন্ডনেই তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বৈঠক করতে পারেন, সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্তরবর্তীকালীন সরকারের ভিতরে অনেকেই যোগাযোগ করছেন বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে। এও জানা যাচ্ছে, বিএনপি শর্ত দিয়েছে, নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা সংক্রান্ত আলোচনা হলে বৈঠক হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কি হয়, সেটা সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
বুধবার বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার যাদের সঙ্গে বৈঠক বা দেখা হতে পারে, তা বিস্তারিত জানিয়েছি, কোনো লুকোছাপা করি নাই। আমার কাছে অন্তত এ বিষয়ে কোনো তথ্য নাই।
তিনি জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পরিবেশ, মানবতা ও শান্তির প্রচেষ্টায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কিংস চার্লস থার্ড হার্মোনি অ্যাওয়ার্ড’ দেবেন রাজা চার্লস। আগামী ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস’স প্যালেসে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি-সহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কোনও বৈঠক হবে কিনা, সেটা এখনও ঠিক হয়নি।
একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমান বা বিএনপির পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখালে বৈঠকের আয়োজন হতেই পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে অবস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যখন ডিসেম্বরেই নির্বাচন চেয়ে অনড়, তারেক রহমানও ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবিতে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন, তখন তাঁর সঙ্গে আর কোন ইস্যুতে বৈঠক হতে পারে? অতি উৎসাহী কেউ কেউ বলছেন, আসলে মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় টিকে থাকতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে টোপ দিতে পারেন। যাতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তত ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন। তবে অনেকেই বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন লন্ডন সফরে মারাত্মক কিছু একটা ঘোঁট পাকতে পারে।












Discussion about this post