ভারত ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক এক চুক্তি। দক্ষিণেশ্বর পরিবর্তিত রাজনীতিতে চ্যুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোঃ ইউনুস গিয়েছিলেন জাপান সফরে। জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল চীনের পর জাপান এবার বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান করবে। কিন্তু এক লহমায় এই জল্পনাকে ভেঙ্গে দিল ভারত। তবে কি ভারত-জাপান এই জোট ঐতিহাসিক কিছু ঘটাতে চলেছে? এর ফলে বাংলাদেশের পাশাপাশি চিনও কি তবে বিপদের সম্মুখীন? সামনে আসছে নানাবিধ প্রশ্ন।
ভারতের এই নতুন অ্যাকশন কার্যত, মোহাম্মদ ইউনূসের কূটনৈতিক কৌশল এবং ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। ভারতে জাপানের মধ্যে চুক্তিটি যদি সম্পন্ন করা যায় তবেসবচেয়ে বিপদে পড়বে চীন। কারণ সরাসরি চীনের অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে এই চ্যুক্তি।
ভারতের অন্যতম দুটি জায়গা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। এর সঙ্গে যদি লাক্ষাদ্বীপ থেকে একসঙ্গে আনা যায় তবে এটা স্পষ্ট হয় এই দ্বীপগুলি শুধুমাত্র নৈস্বর্গীক সৌন্দর্য নয়, এই দ্বীপ গুলির ভূরাজনৈতিক উল্লেখযোগ্য দিকগুলি এই দিকগুলিকে আরও বিখ্যাত করে তুলেছে। আর অন্যদিকে চীনের মূল ভিত্তি হল বাণিজ্য। বিভিন্ন দেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে চিন তার বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে থাকে। কিন্তু চিনির এই ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে শিপিং ইন্ডাস্ট্রি গুলির উপর। বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র করে তারা এই প্রক্রিয়াগুলিকে চালায়, তেমনি একটি কেন্দ্র বাংলাদেশ, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন সংকীর্ণ এলাকায় চিন বিভিন্ন জায়গায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালায়। কিন্তু এর মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল মালাক্কা প্রণালী। যেখানে পৌঁছতে হলে চীনকে পেরোতে হবে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপ পুঞ্জের এই বিশেষ জায়গাটিকে বলা হয় গেটওয়ে অফ মালাক্কা স্টেট। অর্থাৎ মালাক্কা স্টেটে পৌঁছাতে এই জায়গাটিতে যাত্রা শুরু করে প্রত্যেকটি বিদেশি শক্তি। যার ফলে ভারতের এই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ও লাক্ষাদ্বীপ শুধুমাত্র সৌন্দর্যের দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য নয় এটি ভুরাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট প্রভাবশালী একটি অঞ্চল। আর এই মালাক্কা স্টেট বন্ধ করে দেওয়া হলে চীনের ব্যবসা-বাণিজ্যের ৫০ শতাংশই বন্ধের মুখে এসে দাঁড়াবে। এটি ভারতের কাছে ওর রাজনীতির একটি শক্তি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার কেন্দ্রীয় বন্দর ও জাহাজ চলাচল এবং জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং জাপানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী তেরাদা ইয়োশিমিচি আন্দামান ও নিকোবর এবং লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জকে ” স্মার্ট দ্বীপপুঞ্জ “-এ রূপান্তরিত করতে সম্মত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোনোয়াল বলেন, “এই ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান। আমরা আন্দামান ও নিকোবর এবং লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জে যৌথ কাজের সুযোগ দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, স্মার্ট গতিশীলতা ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো স্থাপনে। এই উদ্যোগগুলি পরিবেশগত সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রতি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
এদিন দুই মন্ত্রী জাপানি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, বন্দর ডিজিটাইজেশন এবং পরিবেশবান্ধব বন্দর উদ্যোগে সহযোগিতা বৃদ্ধি , গবেষণা ও উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ বৃদ্ধি এবং জাপানে ভারতীয় নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।












Discussion about this post