ভারতকে চাপে ফেলতে আজ বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। ভারত থেকে স্থলপথে সুতো আমদানি বন্ধ করে নিজের বিপদ ডেকে এনেছিল বাংলাদেশ। কারণ সেদেশের এই সিদ্ধান্তে একের পর এক পাল্টা ব্যবস্থা নেয় ভারত। প্রথমে বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের নির্দেশ দেয় ভারত। এরপরই দিল্লির তরফে ঢাকার জন্য আসে আরও এক বড় ধাক্কা। স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাতিল ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ভারত সরকার। তবে ভারতের এই পুশ ব্যাক শুরুতেই মানতে পারেনি পদ্মপাড়ের দেশ। এবার ভারতর পুশ ব্যাক ইস্যুতে অন্য সুর বাংলাদেশের।
আপাতত ভারতের বহুমুখী চাপ কাটিয়ে উঠতেই নাজেহাল ইউনুসের বাংলাদেশ। তবে চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিমুহূর্তে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘনিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। সাম্প্রতিক কালে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ। কড়া হুশিয়ারি এসেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এবার তা নিয়েই একেবারে অন্য সুরে কথা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত থেকে বাস্তবিক অর্থে পুশ ইন ঠেকানো সম্ভব নয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কনস্যুলার পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যাকে একটা প্রক্রিয়া অনুযায়ী সমাধান করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিন ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৌহিদ আরও বলেন, ভারত থেকে পুশ ইন হচ্ছে। সেটা ফিজিক্যালি আর ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত করেছে ভারতকে। ইতিমধ্যেই এ প্রসঙ্গে ভারতের সাথে চিঠি আদান-প্রদান ও হয়েছে।
বাংলাদেশের তরফে এই ভারতের পুশ ব্যাক প্রসঙ্গে সরকারি চিঠিতে ঢাকার তরফে ভারতকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু পদ্ধতি মেনে এই কাজ করা যেতে পারে। অন্যদিকে নয়া দিল্লি এই চিঠির প্রতি উত্তরে জানিয়েছে, বেশকিছু কেস আটকে রয়েছে, এগুলি নিয়ে ঠিক মতো কাজ করছে না বাংলাদেশ। ভারতের এই প্রতিক্রিয়ায় তৌহিদ বলেন, যাচাই করে দেখেছি, খুব দীর্ঘদিনের তালিকা রয়েছে। পাশাপাশি এটাও দেখেছি যে ভারতের তালিকা অনুযায়ী যাচাই করে অনেককে ফেরত নেওয়া হয়েছে। কাজেই দুপক্ষের বক্তব্য থাকতে পারে।’ ওপার বাংলার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান , কনস্যুলার সংলাপ ব্যবহার করে বিষয়গুলিকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায় কিনা তা নিয়ে চেষ্টা চলছে। এরপর বিষয়টি নিয়মের অধীনে আনতে বাংলাদেশ আরও একটি চিঠি দেবে ভারতকে।
কিন্তু যেখানে ভারতের পুশ ব্যাক প্রক্রিয়ার শুরু থেকে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে হঠাৎ সুর নরম করছে বাংলাদেশ, যা এখন নতুন চর্চার জন্ম দিচ্ছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেওয়া আর সংঘাতের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এই সংঘাতে জড়ানোর মতো ক্ষমতা এখন নেই মোহাম্মদ ইউনুস এর নতুন বাংলাদেশের।












Discussion about this post