দীর্ঘ ২২বছর পর নড়েচড়ে বসলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে নতুন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কিছু নিয়ম সম্বলিত দুটি চিঠি পৌঁছে গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। যা দেখে বাকরুদ্ধ রাজ্য সরকার। দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রায় পৌঁছানোর আগেই মাননীয়াকে চাপে ফেললো নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বিরোধীদের দাবি, দীঘার রথ যাত্রায় পৌঁছে ভোট ব্যাংক ভরার কৌশল সম্পন্ন হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের ভয়ঙ্কর কৌশলের সম্মুখীন হতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে।
বাংলাদেশি নাগরিকরা যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জাল আধার কার্ড ভোটার কার্ড তৈরি করে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে নিজেদেরকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতকে এতদিন বিভ্রান্ত করেছে। সেই ধরনের বাংলাদেশী পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ না করতে পারে তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি নিয়ম পরিবর্তিত করেছে। আর সেই নিয়মের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে জন্মের প্রমাণপত্র সঠিকভাবে পেশ করতে না পারলে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা যাবে না, আর এই সমস্ত নিয়ম উল্লেখিত দুটি চিঠি পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে। নতুন করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকার কি খেলা শুরু করেছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না মাননীয়া। এই চিঠি হাতে পেতেই তিনি তৎক্ষণাৎ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কমিশনের তরফে পাঠানো ডিক্লেরেশন ফর্মের কিছু বিষয়ে তিনি সহমত নন। কারণ ওই ফর্মে উল্লেখ করা রয়েছে ১৯৮৭ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে জন্ম প্রতিটি ব্যক্তিকে জন্ম সাল উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। পাশাপাশি জন্ম সার্টিফিকেট দাখিল করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের তরফে।
এককথায় কমিশনের এই নয়া নিয়ম নিয়ে ঘোর আপত্তি মমতা বন্দোপাধ্যায় এর। তাঁর দাবি,কমিশন বাংলাকে নিশানা করতে চাইছে। আসলে বাংলা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করছে তারা। বিজেপির কথা মতোই কাজ করছে কমিশন। অর্থাৎ তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে নিশাণা করেই এই দাবি করেছেন।
আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আপত্তির পর অনেকেই মনে করছেন তবে কি বিজেপির দাবি সঠিক। বাংলাদেশের নাগরিকদের পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের পরিচয় দিয়ে ভোট করান মুখ্যমন্ত্রী আর সেই কাজেই এখন বাঁধা পড়তে চলেছে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী যখন সম্প্রতি দীঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ করে এবং রথযাত্রার আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু ভাবাবেগ কে টেনে ভোটব্যাঙ্ক ভরানোর নানারকম প্রস্তুতি শুরু করেছে তখনই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই নিয়ম যেন চাপে ফেললো রাজ্য সরকারকে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post