বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি পুলিশ নিজেই মবের শিকার হচ্ছে। পুলিশের উপর নির্যাতন চলছে। তাহলে সাধারণ মানুষকে কিভাবে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ? উঠছে প্রশ্ন। জানা যায়, খুলনাতে আটক এসআই কে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তার প্রেক্ষিতে KMP সদর দফতরে শিক্ষার্থীদের তালা। সূত্রের খবর, পুলিশ ও উপপরিদর্শক এসআই সুকান্ত দাসকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় খুলনা মেট্রোপলিটন সদর দফতর ঘেরাও করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা কেএমপি এর প্রধান ফটকের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তারা রাস্তা আটক করে বিক্ষোভ শুরু করে। জানা গিয়েছে , মঙ্গলবার বিকেলে খুলনার খানজাহান আলী থানা এলাকা থেকে এসআই সুকান্ত কুমার দাসকে আটক করে মারধর করেন স্থানীয়রা। এই এসআই এর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের ওপর নিপীড়ন এবং গণ গ্রেফতারের অভিযোগ ছিল। গণ অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুকান্ত দাসের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলমের বাসভবনে হামলা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানমুখী আন্দোলনে পুলিশের হামলার অভিযোগে অন্তত চারটি মামলা আছে। এসব মামলার একজন অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া আইনের অপব্যবহার এবং পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ বলেও অভিযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। তাই তারা বিক্ষোভ শুরু করে। জানা যায়, ওই পুলিশ অফিসার তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন একটি থানায়। সেখান থেকেই তাকে আটক করে নিয়ে মারধর শুরু করে স্থানীয়রা। মব বাহিনী চলে গেলে, পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতেই, কেএম পি সদর দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বিক্ষোভকারীরা।
এই ঘটনা একেবারে প্রমাণ করে দেয়, বাংলাদেশে কিভাবে চলছে মব কালচার। বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, পুলিশের উপর এমন নির্যাতন এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি গত ৫ই অগাস্টের সময় বহু পুলিশের মৃত্যু হয়েছে মানুষের আক্রমণে। এমনকি এমন কোনও থানা নেই, যেখানে আক্রমণ হয়নি। কিন্তু বিচার করেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাই অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের রাস্তায় পুলিশ বা র্যাবকে দেখা যায় না। হয় ডিবি পুলিশ একশন নেয়, নাহলে সেনাবাহিনী একশন নিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করে। ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইভাবে পুলিশের উপর অত্যাচার চালানো হলে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারবে না সাধারণ মানুষকে। যদি পুলিশ সক্রিয় হোক এটা কেউ চায়, তবে পুলিশের উপর হওয়া নির্যাতন বা মবের বিচার করতে হবে সরকারকে। প্রসঙ্গত, সাবেক নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে তার উত্তরার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে জুতোর মালা পরিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। আর সেই ঘটনায় নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে বাংলাদেশে। এমন কেউ এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, পুলিশ উপস্থিত ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে কি করে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, সেই নিয়ে নানা মহল সরব হয়েছিল। কিন্তু এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ এই ধরনের ঘটনা আটকাতে গেলে মবের শিকার হবে পুলিশ। তাহলে কাকে কেনই বা নিরাপত্তা দেবে! সবার আগে প্রয়োজন, পুলিশের নিরাপত্তা। পুলিশ নিরাপত্তা হীনতায় ভুগলে সাধারণ মানুষের কি পরিণতি হবে, সেটা সময় গেলে আরও পরিষ্কার হবে।












Discussion about this post